বরিশালের কালাবদর নদীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে জেলেদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও ভোলা সদর উপজেলার সীমানাঘেঁষা কালাবদর নদীসংলগ্ন একটি খালের মধ্যে হামলাটি হয়। মৎস্য অধিদপ্তর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, অধিদপ্তরকে না জানিয়ে কোস্ট গার্ড নিয়মবহির্ভূতভাবে অভিযানে গিয়ে হামলার মুখে পড়ে।
মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর সানি বলেন, কোস্ট গার্ডের ওপর হামলার ৭ মিনিটের একটি ভিডিও আজ মঙ্গলবার ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও দেখার পর তিনি এই অভিযানের বিষয়ে জানতে পেরেছেন। পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, ভোলা কোস্ট গার্ডের একটি দল দুটি স্পিডবোটে অভিযানে নেমেছিল। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণের জেলে নৌকা ধাওয়া করে তারা। নৌকাগুলো মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন-সংলগ্ন তিন নদীর মোহনায় বরিশালের জলসীমার মধ্যে ঢুকে পড়ে। তারা একটি খালের মধ্যে আশ্রয় নেয়। কোস্ট গার্ডের স্পিডবোট খালের মধ্যে ঢুকলে জেলেরা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালান।
এ মৎস্য কর্মকর্তা জানান, এই অভিযানে দুটি নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে। প্রথমত, কোস্ট গার্ড অভিযানে গেলে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিতে হয়। এই অভিযানের বিষয়ে বরিশাল ও ভোলা মৎস্য অধিদপ্তরে জানানো হয়নি। দ্বিতীয়ত, ভোলার কোস্ট গার্ড তার সীমারেখা অতিক্রম করে বরিশালের জলসীমার মধ্যে ঢুকেছে। মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তিনি এসব বিষয়ে জানিয়েছেন।
ভোলা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদি হাসান একই তথ্য জানিয়ে বলেন, তিনিও শুনেছেন ভোলা কোস্ট গার্ড অভিযানে গিয়েছিল। কিন্তু ভোলা মৎস্য অধিদপ্তর এ বিষয়ে কিছু জানে না।
এ প্রসঙ্গে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ মিডিয়া সেলের প্রধান লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম সাংবাদিকদের বলেন, অভয়াশ্রমে ইলিশ আহরণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলছে। কোস্ট গার্ড অভিযানে গিয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিধন করা ইলিশ জব্দ করেছে। তখন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। কিন্তু ঘটনার আগের ভিডিও কাট করে ভিন্নভাবে প্রচার করে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। অভিযানে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে না রাখা প্রসঙ্গে এ কর্মকর্তা বলেন, জব্দ করা ইলিশ তাঁদের উপস্থিতিতে বিতরণ করা হয়েছে। দক্ষিণ জোনের আওতায় আটটি জেলার নদ-নদী। তাই জলসীমানা অতিক্রমের তথ্যও সঠিক নয়।
এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান জানান, তাঁকে স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তা বিষয়টি অবহিত করেছেন। কোস্ট গার্ড নাকি ভোলা সদর থেকে এসে মেহেন্দীগঞ্জে অভিযান করেছে। কিন্তু এটা তারা পারে না। এমনকি অভিযান করলেও মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে করতে হবে।