হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম পুলিশের ‘সম্পদশালী’ সাবেক এডিসি ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকা সম্পদের তথ্য গোপন এবং দুর্নীতির মাধ্যমে ১৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক। এ ছাড়া তাঁর ব্যবসায়ী স্ত্রী সায়মা বেগমের বিরুদ্ধে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম মামলা দুটি দায়ের করেন। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিএমপি থেকে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আজকের পত্রিকায় ২০২৪ সালের ২৫ জুন ‘পুলিশের এডিসির ১০ কোটির অবৈধ সম্পদ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তখন পুলিশে কর্মরত অবস্থায় ঘুষ গ্রহণ ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি অভিযোগের বিষয় তদন্ত করে ঢাকা দুদক কার্যালয়ে এ-সংক্রান্ত একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেওয়া ও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর পৃথক সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি চেয়ে দুদকে আবেদন করা হয়েছিল; যা পরে অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর সাবেক এডিসি কামরুল হাসান ও তাঁর স্ত্রী সায়মা বেগম পৃথক দুটি সম্পদ বিবরণী দুদক বরাবর দাখিল করেন।

গতকাল মামলার পর দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানান, পৃথক দুটি মামলায় আসামি মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পৃথক দুটি মামলার এজাহারে জানা গেছে, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কামরুল হাসান দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে নিজ নামে ৭ কোটি ৩৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ ও ১১ কোটি ৮২ লাখ ৩৪ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ থাকার তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু দুদকের তদন্তে তাঁর নামে ২৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। তাঁর বিরুদ্ধে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১০ কোটি ৭৮ লাখ টাকার বেশি সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের অসংগতিপূর্ণ ১৭ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ২৮২ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে উপার্জনের মাধ্যমে ভোগদখলের অভিযোগ আনে দুদক। কামরুল হাসানের স্ত্রী সায়মা বেগম নগরের বারিক বিল্ডিং এলাকায় মেসার্স সওদাগর নেভিগেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। দুদক বলেছে, পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী সায়মা বেগমের বিরুদ্ধে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার স্থাবর ও ২ কোটি ৫২ লাখ ৭০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন। দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর বিরুদ্ধে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের বাইরে তাঁর ৩ কোটি ১৪ লাখ ৪ হাজার ৯২৮ টাকার সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়। কামরুল হাসান চাকরিকালে অসাধু উপায়ে তাঁর উপার্জিত অর্থের মাধ্যমে ও পারস্পরিক যোগসাজশে স্ত্রী সায়মা বেগম অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

জানা গেছে, অভিযুক্ত কামরুল হাসান ১৯৮৯ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে যোগ দেন। তিনি চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন থানায় ওসি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি এসি ও এডিসি হিসেবে পদোন্নতি পান। সিএমপির পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) বিভাগে অতিরিক্ত উপকমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তিনি অবসরে যান। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম আদালতে সিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগে এডিসি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মিরওয়ারিশপুর গ্রামে।

রাজধানীর সড়কে দ্বিতীয় দিনের উচ্ছেদ অভিযান, জরিমানা-কারাদণ্ড

ইবি শিক্ষিকা হত্যা: আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক-রেল অবরোধ, এসপি অফিস ঘেরাও

সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা এবার জুলাই আন্দোলনের মামলায় গ্রেপ্তার

খরচ তুলতে না পারায় বন্ধ রাবির ই-কার সেবা

১৮ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

কৃষককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ

ফরিদপুরে দেড় শ টাকায়ও মিলছে না ডিজেল, ফসল উৎপাদন হ্রাসের শঙ্কা

চার বছর অপেক্ষার পর এসেছিল প্রথম সন্তান, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু

ক্রেতাকে মারধরের ঘটনায় মাংস বিক্রেতাসহ ২ জন কারাগারে

বিদ্যালয়ের ছাদের কিছু অংশ ধসে ৩ শিক্ষার্থী আহত