হোম > সারা দেশ > মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জে বিএনপির পুরোনো ঘাঁটি পুনর্দখল: তিন আসনেই দাপুটে জয়

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

আফরোজা খানম, এস এ জিন্নাহ কবীর ও মঈনুল ইসলাম খান

মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনেই বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন। একযোগে তিন আসনে এই জয়কে জেলার রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীর ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. তোজাম্মেল হক পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৮১৮ ভোট।

মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খান ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. সালাহউদ্দিন পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫৩১ ভোট। এর আগে ২০০৬ সালে (সাবেক মানিকগঞ্জ-৪ আসন) উপনির্বাচনে বাবার মৃত্যুতে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত।

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী আফরোজা খানম ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ সাইদ নূর পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট।

মানিকগঞ্জ-৩ আসনের এ জয় বিশেষভাবে আলোচিত। আফরোজা খানম রিতা তাঁর প্রয়াত বাবা, সাবেক মন্ত্রী হারুনুর রশীদ খান মুন্নুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। ২০০১ সালের নির্বাচনে হারুনুর রশীদ খান মুন্নু ১ লাখ ৫৭৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পর একই আসনে মেয়ের রেকর্ডসংখ্যক ভোটে জয়কে দলীয় নেতা-কর্মীরা ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখছেন।

বিজয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আফরোজা খানম বলেন, ‘এ বিজয় মানিকগঞ্জ-৩ আসনের মানুষের। তাদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব।’ তিনি উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মানিকগঞ্জ-১ আসনে জয়ী এস এ জিন্নাহ কবীর বলেন, ‘দীর্ঘ ৪৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে রাজপথে সক্রিয় থেকেছি এবং আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি সব সময়। তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক পুনর্গঠন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন এবং স্থানীয় ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকার ফলেই এই সাফল্য এসেছে।’

মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বলেন, ‘এই বিজয় মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাধারণ মানুষের রায়। দীর্ঘদিন পর মানুষ তাদের মতপ্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। আমি তাদের আস্থার মর্যাদা রাখতে চাই। উন্নয়ন, সুশাসন এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব। দলমত-নির্বিশেষে সবার প্রতিনিধি হয়ে এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা থাকবে।’

মানিকগঞ্জে একসময় বিএনপির শক্ত অবস্থান ছিল। এই অঞ্চলে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, সাবেক মন্ত্রী হারুন অর রশীদ খান মুন্নু এবং প্রয়াত মন্ত্রী শামসুল ইসলাম খান নয়া মিয়া প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন দলের মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল বলেন, ‘সংকটকালে যখন অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, তখন রিতা আপা নেতা-কর্মীদের পাশে বটবৃক্ষের মতো দাঁড়িয়েছেন। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই এবার সবাই এককাট্টা হয়ে ভূমিধস জয় এনে দিয়েছে।’

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নূরতাজ আলম বাহার বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর জেলার রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দলটি আবারও নিজেদের শক্ত অবস্থান দৃশ্যমান করেছে। একসময়ের পুরোনো দুর্গই ফিরে পেল বিএনপি।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক সাইফুদ্দিন আহমেদে নান্নু বলেন, ‘সাংগঠনিক প্রস্তুতি, স্থানীয় বাস্তবতা, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশা—এই চার উপাদানই মানিকগঞ্জে বিএনপির প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি করেছে। এই ফলাফল কেবল আসনভিত্তিক জয় নয়, বরং জেলার সামগ্রিক রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। নতুন সংসদ সদস্যদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং দলীয় ঐক্য ধরে রাখা।’

নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজদের আজ থেকেই প্রতিহত করুন: আল আমিন

গাইবান্ধায় বাম দলের সব প্রার্থীসহ জামানত হারালেন ২৮ জন

ঢাকা বিভাগের ৭০টি আসনের ৫৯টিই বিএনপির দখলে

নির্বাচিত সর্বকনিষ্ঠ নারী সদস্য হলেন পটলকন্যা পুতুল

চাঁদপুরে নির্বাচনের পর বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর, শিশুসহ আহত ৫

নাটোরে ২৭ প্রার্থীর ১৯ জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত

সিলেটে যে ২০ প্রার্থী জামানত হারালেন

ময়মনসিংহ বিভাগের সিংহ ভাগ আসন বিএনপির

ভোটের পরদিন আ.লীগের অফিস খুলে দিলেন বিএনপি নেতা

ঝিনাইদহে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: সংঘর্ষে আহত ১০, স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিসে হামলা