ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুরের সালথায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর-২ আসনের দলীয় প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলামের হাতে ফুল দিয়ে দলে যোগদান করেছেন আনোয়ার হোসেন মিয়া নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা। অথচ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপির এই নেত্রীর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় সালথা থানায় দায়েরকৃত মামলার ১২ নম্বর আসামি এই আওয়ামী লীগ নেতা।
জানা গেছে, গতকাল রোববার বিকেলে সালথা উপজেলার ভাওয়াল গ্রামে বিএনপির প্রয়াত নেতা আতিয়ার রহমান কবির মিয়ার কবর জিয়ারত করেন শামা ওবায়েদ। পরে সেখানে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় অংশ নেন তিনি। ওই সভায় তাঁর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন আনোয়ার হোসেন মিয়া।
আনোয়ার হোসেন মিয়া বর্তমানে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। তাঁর ভাই দেলোয়ার হোসেন মিয়া একই কমিটির সভাপতি। যোগদানের সময় পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেননি বলেও জানা গেছে। সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি আজ থেকে বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদের দলে যুক্ত হলাম। আগামী দিনে আমি তাঁর একজন সৈনিক হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে যাব।’
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ২৬ ডিসেম্বর সালথা কলেজ মাঠে শামা ওবায়েদের পক্ষে একটি জনসভার আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি। ওই জনসভায় হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় শামা ওবায়েদের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই ঘটনার বিষয়ে সালথা থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি করেন সালথা উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুর রব মাতুব্বর। মামলায় ৮২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। আনোয়ার হোসেন মিয়া ওই মামলার ১২ নম্বর আসামি। মামলার বিবাদী পক্ষের আইনজীবী ছানোয়ার হোসেন জানান, শামা ওবায়েদের গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় আনোয়ার হোসেন মিয়া বর্তমানে আদালতের আদেশে জামিনে রয়েছেন।
আনোয়ার হোসেনের বিএনপিতে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন আমাদের নেত্রী শামা ওবায়েদের ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।’
তবে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পদসহ প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করেননি বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। এদিকে পদত্যাগ ছাড়াই একজন পদধারী আওয়ামী লীগ নেতার প্রকাশ্যভাবে বিএনপিতে যোগদানের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সালথা উপজেলার বাসিন্দা শওকত হোসেন মুকুল ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ভাই বিএনপিতে যোগদান। কিন্তু উনি ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে। কারণ, উনার ভাই সালথা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে নৌকা প্রতীক পান। উনি সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, উনার আরেক ভাই ছিল ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং জজকোর্টের এপিপি। তাঁরা কোনো সুযোগ-সুবিধা পান নাই কিন্তু সালথার স্বঘোষিত এমপি ছিল, যে পদ দিয়ে এত টাকা কামিয়েছে আফসোস সেই পদটাও সঙ্গে নিয়ে গেল পদত্যাগ না করেই বিএনপিতে যোগ দিলেন।’