হোম > সারা দেশ > শেরপুর

শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় ২৩৪ জনকে আসামি করে মামলা

শেরপুর প্রতিনিধি

রেজাউল করিম। ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৪০) নিহতের ঘটনার ৩ দিন পর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নিহত রেজাউল করিমের স্ত্রী মোছা. মার্জিয়া (৩৪) বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় এ হত্যা মামলা করেন। মামলায় ২৩৪ জনকে নিজ নামে এবং অজ্ঞাতনামা ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান। তবে মামলায় কে কে আসামি, সেটি তাৎক্ষণিক জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। তবে মামলায় বিএনপির বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের আসামি করা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্রও মামলার তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

এদিকে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে শেরপুর জেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৪টায় জেলা জামায়াতের উদ্যোগে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক শহরের মাইসাহেবা মসজিদের সামনে থেকে ওই বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডিসি গেটে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন শেরপুর-১ (সদর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের জামায়াতের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া, জেলা এনসিপির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শেরপুর জেলা সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশরাফুজ্জামান মাসুম প্রমুখ।

বক্তব্যে জামায়াত নেতারা বলেন, ‘রেজাউল করিমের হত্যাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না করা হলে এই জেলার সব কার্যক্রম অচল করে দেওয়া হবে। আমাদের ভাই শহীদ রেজাউলের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে আনতে হবে।’ তাঁরা আরও বলেন, ‘এই বদলা নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তাহলে আমরা প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থাকব। রেজাউলের মতো আমরা রক্ত দিতে প্রস্তুত রয়েছি। প্রশাসনের উদ্দেশে বলছি, রেজাউল হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। এ ছাড়া আগামী দিনে কোনো কর্মসূচিতে যদি প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করে, তাহলে প্রশাসনের ওই কর্মকর্তাদের শেরপুর ছাড়তে হবে।’

সমাবেশে ৩১ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্টেডিয়ামে শহীদ রেজাউলের জন্য দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২৮ জানুয়ারি বুধবার ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়ান বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক লোক আহত হন। পরে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই দিন রাতেই তিনি মারা যান।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম: সড়কবিহীন ৬৭ লাখের সেতু

মেহেরপুরের গাংনী: ধান-গম ছেড়ে তামাক চাষ

তারেক-শফিকুর-রেজাউল করীমের অপেক্ষায় বরিশাল

চট্টগ্রাম-৪ আসন: প্রার্থী ৯ জন, লড়াই দুজনের

পিরোজপুরের তিনটি আসন: বিএনপির শক্ত প্রতিপক্ষ জামায়াত

চট্টগ্রাম বন্দর: সতর্কবার্তার পরও শ্রমিকের কর্মবিরতি

বরগুনায় জামায়াতের বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন

দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায় ভারতের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরলেন ১২৮ মৎস্যজীবী

রাবিতে নারী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

জামায়াত নেতা হত্যা: দোষীদের আইনের আওতায় না আনলে ডিসি অফিস ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি