রাজধানীর উত্তরায় ওয়েল্ডিংয়ের ঝালাই থেকে ফার্নিচার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছয় দোকানের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যদিও দুপুরে একই কাজ করতে গিয়ে আরেকবার অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে ব্যবসায়ীরা তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
উত্তরা ১১ নং সেক্টরের সোনারগাঁও জনপদ সড়কের ৫০ নং প্লটের রমজান আলী মার্কেটে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীকালে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট প্রায় ৪০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, ৫০ নং প্লটের ফার্নিচার মার্কেটটির ওপর স্টিলের স্ট্রাকচার ঝালাই করতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে উত্তরা ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়।
এদিকে সেক্টরের বাসিন্দাদের সূত্রে এবং খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, পুড়ে যাওয়া ফার্নিচার মার্কেটটি ৫ আগস্টের পূর্বে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিএনসিসির ৪৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম, ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খান, ৫১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরিফুর রহমান ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা দখল করে কাঁচাবাজার দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এক রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুরো বাজার পুড়ে যায়। তারপর একটি অংশ দখল করে রমজান আলী মার্কেট তৈরি করা হয়েছিল। মার্কেটের দ্বিতীয় তলার স্টিলের স্ট্রাকচারের কাজ করতে গিয়ে দুপুরে প্রথমবার আগুনের সূত্রপাত হয়। তারপর ব্যবসায়ীরাই আগুন নিভিয়ে ফেলে। পরে সন্ধ্যায় ফের একইভাবে অগ্নিকাণ্ডে মার্কেটে থাকা ছয়টি দোকানই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে মার্কেটে থাকা ফার্নিচার, লেপ-তোশকের ছয়টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে উত্তরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আলম হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মার্কেটটিতে বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাই। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ৫টা ৪২ মিনিটে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করি। তারপর ৬টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়।’
আলম হোসেন বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, মার্কেটের ওপরে স্টিলের স্ট্রাকচার করতে গিয়ে ঝালাই থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।’
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসেন ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মার্কেটের ব্যবসায়ী জুয়েলের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি। মার্কেটিতে কয়েক ঘণ্টা ব্যবধানে দুবার আগুন লাগে। প্রথমবার রক্ষা হলেও দ্বিতীয়বার আগুনে ছয়টি দোকান পুড়ে গেছে।’
রাজউক চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানিয়ে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি মার্কেটের জায়গাটি রাজউকের। অবৈধভাবে জমি দখল করে মার্কেট করা হয়েছিল। না হলে মার্কেট থেকে কেউ টাকা নিত না। তাই চেয়ারম্যানের প্রতি অনুরোধ থাকবে, এভাবে যাতে রাজউকের জায়গা কেউ দখল, চাঁদাবাজি করতে না পারে।’
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ‘আমি বলব, যেসব ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক। সেই সাথে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’