হোম > সারা দেশ > ময়মনসিংহ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: ছেলের লাশের অপেক্ষায় বছর পার এক মায়ের

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 

ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত ছেলে ইয়াছিন শেখের ছবি নিয়ে আহাজারি ফিরোজা বেগমের। সম্প্রতি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মরিচালী গ্রামে। ছবি: আজকের পত্রিকা

গত বছরের ২৭ মার্চ ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারান ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের মরিচালী গ্রামের ইয়াছিন শেখ। এক বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু এখনো দেশে ফেরেনি তাঁর মরদেহ। সন্তানের শেষ মুখটি দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন মা ফিরোজা বেগম; প্রতিটি প্রহর যেন তাঁর কাছে একেকটি অনন্ত যন্ত্রণা।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইয়াছিন ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানের অগ্রভাগের এক সাহসী যোদ্ধা। আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে ২০২৪ সালের ৭ জুলাই কলেজের ক্লাস ছেড়ে তিনি যোগ দেন ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচিতে। ৩ আগস্ট এক হাতে শহীদ আবু সাঈদের অঙ্কিত ছবি আর অন্য হাতে ‘ভি’ চিহ্ন তুলে সগৌরবে ঘরে ফেরেন তিনি। শহীদদের স্মরণে ১০ আগস্ট মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচিতেও অংশ নেন ইয়াছিন। এরপর পাড়ি জমান রাশিয়ায়।

ইয়াছিনের বড় ভাই রুহুল আমিন শেখ জানান, রাশিয়ার রস্তু বন্ধন ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালে ইয়াছিনের মৃতদেহ সুরক্ষিত রয়েছে। বিষয়টি অবগত করে দ্রুত লাশ আনার দাবি জানিয়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবরে আবেদন করা হয়। একের পর এক পত্রালাপ হলেও ভাইয়ের লাশ বা ক্ষতিপূরণ কিছুই পাননি তাঁরা।

ইয়াছিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুত্রশোকে শয্যাশায়ী হলেও বারবার ছেলের ছবিতে হাত বুলাচ্ছেন মা ফিরোজ বেগম। তিনি বলেন, ‘তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও। আমার সোনা মানিকের লাশটা স্পর্শ করে দেখি। গত বছরের ২৬ মার্চ শেষ কথা হয় ইয়াছিনের সঙ্গে। টাকা পাঠাব, ঘর বানাব আরও কত কথা বলেছে আমার ছেলে।’

বাংলাদেশ দূতাবাস, মস্কো, রাশিয়ায় কর্মরত শ্রম কল্যাণ উইংয়ের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. মাজেদুর রহমান সরকার এক পত্রে পরিবারকে জানান, কূটনৈতিকপত্র প্রেরণ, ইয়াছিন শেখের মৃতদেহ চিহ্নিতকরণ, দূতাবাসকে অবহিতকরণ ও দ্রুত দেশে প্রেরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলন ইয়াছিনকে যুদ্ধের সাহস জোগায়। সেই সাহস আর বাবার ইচ্ছে পূরণের জন্য রাশিয়া গিয়ে সেখানে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। গত বছর ২৭ মার্চ যুদ্ধে নিহত হলেও এ খবর পরিবার জানে ১ এপ্রিল।

পরিবার জানায়, বড় হয়ে ইয়াছিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন—এটা ছিল তাঁর বাবার ইচ্ছে। ডৌহাখলা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালে এসএসসি পাস করেন ইয়াছিন। এরপর দেশের মাটিতে সৈনিকে যোগ দিতে একাধিকবার সেনাবাহিনীর লাইনে দাঁড়িয়েও বাবার সেই ইচ্ছে পূরণ করতে পারেননি। ২০২১ সালে গৌরীপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন তিনি। গত বছরের জানুয়ারিতে রাশিয়ায় একটি কোম্পানিতে চাকরির জন্য আবেদন করেন। সেপ্টেম্বরে অফার লেটার আসে। চলে যান রাশিয়া। একটি কোম্পানিতে তিন মাস চাকরির পর অনলাইনে আবেদন করে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক সৈনিক হিসেবে যোগ দেন।

ফেসবুকে আপলোড করা এক ভিডিওতে ইয়াছিন বলেছিলেন, ‘দেশে না হলেও বিদেশে সৈনিক হয়ে বাবার স্বপ্নপূরণ হয়েছে। যুদ্ধে মৃত্যু হলেও কোনো আফসোস থাকবে না।’

মমেক হাসপাতাল: চিকিৎসকের অপেক্ষায় ঘণ্টা পার

ক্রুড অয়েল সংকট: ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধের আশঙ্কা

কুমিল্লা: অরক্ষিত ১১৬ লেভেল ক্রসিং, পাঁচ বছরে ঝরল ৩৫৫ প্রাণ

দস্যু ঝুঁকি নিয়েই সুন্দরবনে যাচ্ছেন আজ মৌয়ালেরা

রংপুরের মিঠাপুকুর: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে আলু রপ্তানি বন্ধ

অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা, ডিবি সোর্সসহ গ্রেপ্তার ৩

গাইবান্ধা হাসপাতালে নিম্নমানের খাবার বিতরণের অভিযোগ

ঢাকার সড়ক-ফুটপাতে অবৈধ দোকান উচ্ছেদে অভিযান শুরু কাল

চট্টগ্রামে চাঁদা না পেয়ে প্রবাসীকে জখম, আদালতে মামলা

কালাবদর নদীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে জেলেদের হামলা