স্ত্রী ও নয় মাসের সন্তান হারানো ছাত্রলীগ (নিষিদ্ধঘোষিত) নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম যশোর কারাগার থেকে মুক্তির পর বাগেরহাটে নিজ বাড়িতে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি প্রথমেই শ্বশুর রুহুল আমিন হাওলাদারসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে স্ত্রী-সন্তানের কবরে যান। এ সময় সাদ্দাম কবরের মাটি ছুঁয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। পরে স্ত্রী-সন্তানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে নিজেই মোনাজাত করেন।
মোনাজাতে সাদ্দাম বলেন, ‘আমি এক হতভাগা স্বামী, আমি এক হতভাগা বাবা। আমি আমার সন্তানকে কোলে নিতে পারিনি। তুমি আমার স্ত্রী-সন্তানকে ক্ষমা করে দাও। আমার স্ত্রী যদি হত্যার শিকার হয়ে থাকে, তাহলে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তার বিচারের ব্যবস্থা করো।’
মোনাজাত শেষে শ্বশুরবাড়িতে যান সাদ্দাম। ওই বাড়িতে কিছুক্ষণ থাকার পরে একটি সাদা হাইয়েস গাড়িতে দ্রুত চলে যান ছাত্রলীগের এই নেতা।
এ সময় দুই পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
যাওয়ার আগে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাদ্দাম। তিনি বলেন, ‘কারাগারে যাওয়ার পর আমাকে যশোর কারাগারে দেওয়া হয়েছে, তখন আমার স্ত্রী মনে করেছে, আমি আর কখনো বের হতে পারব না। আমি মনে করি, এটা পরিকল্পিত হত্যা। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’
সাদ্দাম আরও বলেন, ‘আমি অনেকবার জামিন চেয়েছি, জামিন হয়নি। আমি আমার ছেলেকে কোলে নিতে পারিনি, আমার স্ত্রী-সন্তানের লাশের বিনিময়ে আমাকে জামিন দেওয়া হলো।’ এ সময় নিজেকে নির্দোষ ও কারাগারে সাক্ষাতের জন্য ১৫ দিনের স্থানে সাত দিন করার দাবি জানান তিনি।
এদিন বেলা ২টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান জুয়েল হাসান সাদ্দাম। তাঁর মুক্তির তথ্য জানতে সাংবাদিকেরা দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যশোরের কারাফটকে অপেক্ষা করতে থাকেন। সন্ধ্যার আগপর্যন্ত কারা কর্তৃপক্ষ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের মুক্তির বিষয়ে কোনো তথ্য মেলেনি। বাইরে থেকে বারবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি বলে জানা গেছে।
এর আগে গত সোমবার ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামকে মানবিক বিবেচনায় ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
গত শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাটের বেখেডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ ও পাশ থেকে নয় মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরদিন স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ সাদ্দামকে শেষবারের মতো দেখানোর জন্য যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যান স্বজনেরা। কারা কর্তৃপক্ষ মানবিক বিবেচনায় পাঁচ মিনিটের জন্য সাদ্দামকে স্ত্রী ও সন্তানকে দেখার সুযোগ দেয়। এ ঘটনায় তাঁর প্যারোলে মুক্তি না পাওয়া নিয়ে সারা দেশে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে জুয়েল হাসান সাদ্দাম। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে ছিলেন।