হোম > সারা দেশ

আমতলীতে জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ২০

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরগুনার আমতলী উপজেলার ছোট নীলগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ১৭ জনকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছোট নীলগঞ্জ এলাকার আবুল হোসেন গাজী ও রুস্তম হাওলাদারের মধ্যে তিন একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ওই জমি নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রুস্তম হাওলাদার জমি চাষ করতে গেলে আবুল হোসেন গাজীর পক্ষের লোকজন বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে আহত আবুল হোসেন গাজী (৫০), খোকন (৩৫), মহসীন গাজী (২৮), জলিল গাজী (৪৪), জাহিদুল (৩৫), আখিনুর (৩০), সোনিয়া (৩৫), সোহেল মোল্লা (৪০), ফয়সাল (২৫), মাহবুবুর রহমান (৩২), ইমরান (২৪), সাইদুল গাজী (৪০), আমিনুল ইসলাম (১৬), দুলাল মুসুল্লী (৫৫), লুৎফর (৫৫), রুস্তম হাওলাদার (৭৫) ও পাশা হাওলাদারকে (৪৫) আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, খোকন, সোহেল মোল্লা, জলিল গাজী, আখিনুর, রুস্তম হাওলাদার ও মাহবুবুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহত আবুল হোসেন গাজী জানান, তাঁর পৈতৃক জমিতে রুস্তম হাওলাদার ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে জোরপূর্বক চাষ করতে যান। বাধা দেওয়ায় তাঁর পক্ষের ১৩ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আবুল হোসেন গাজী বলেন, ‘এই জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রুস্তম হাওলাদার ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে জমি চাষাবাদ করতে আসে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

রুস্তম হাওলাদারের ছেলে পাশা হাওলাদার জানান, জমিতে চাষ করতে গেলে আবুল হোসেন গাজী ও তাঁর লোকজন বাধা দেন। এতে তাঁদের পক্ষের সাতজন আহত হয়েছেন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা লুনা বিনতে হক বলেন, আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন জানান, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।