বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা কিংবা যেকোনো কারণেই হোক হাম-রুবেলা প্রতিরোধে প্রচারণা ও নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে। যাতে এই রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়ে।
আজ রোববার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঢাকা থেকে ভার্চুয়াল টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং হামজনিত শিশুর মৃত্যু শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।
সরকার প্রাথমিকভাবে সারা দেশে ১৮টি জেলার ৩০ উপজেলায় হামের বিস্তার থামাতে জরুরি এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। এর মধ্যে উচ্চ সংক্রমণের উপজেলা হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামুতেও হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই দুই উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হবে।
কক্সবাজারে গতকাল এক দিনেই হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৫ জন শিশু। বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে রোগী ভর্তি আছে ৪২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় রামু উপজেলায় চিকিৎসাধীন এক শিশু মারা গেছে।
এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে জেলায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রামুতে দুজন, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও সদর উপজেলায় একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছে ৭৫ শিশু।
১ জানুয়ারি থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত জেলা সদর হাসপাতালে ৯৩ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। জেলায় এই সময়ে হাম-রুবেলায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৮৫ জন।
সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মং টিং ঞো বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের বেশির ভাগ মহেশখালী, রামু ও কক্সবাজার পৌরসভা এলাকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে পৃথক ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ চালু করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।