ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আলী নাছের খানের বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাড. মেহদী হাসান এলিস।
আজ মঙ্গলবার গাজীপুর ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ধানের শীষের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সালাহ উদ্দিন সরকার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নির্বাচনের মাত্র এক দিন বাকি থাকলেও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে এই অভিযোগের সঠিক তদন্ত হওয়া জরুরি।’
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আলী নাছের খান তাঁর হলফনামা ও ট্যাক্স রিটার্নে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন।
অভিযোগগুলো হলো, হলফনামায় তাঁর এনআইডি নম্বর ৫৯৬২০৮০২৩০ এবং জন্ম তারিখ ০২/০৩/ ১৯৮৭ উল্লেখ করা হলেও ট্যাক্স রিটার্নে এনআইডি নম্বর ৫৯৬২৯৮০২৩০ এবং জন্ম তারিখ ০৭/০৩/১৯৮৮ দেখানো হয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে প্রার্থী আলী নাছের তাঁর ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর ও সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাব নম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে ভোটারদের কাছে প্রকাশ্যে নির্বাচনী অর্থ সহায়তা চেয়েছেন, যা নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী। সরকারি ডেটাবেইসের তথ্যের সঙ্গে তাঁর দেওয়া তথ্যের মিল না থাকায় একে ‘পরিকল্পিত তথ্য গোপন’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি হলফনামায় তথ্য গোপন করেন বা মিথ্যা ঘোষণা দেন, তবে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলযোগ্য।
এ বিষয়ে অ্যাড. মেহেদী হাসান এলিস আজকের পত্রিকাকে বলেন, নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের বিভ্রান্তি দূর করতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির প্রার্থী আলী নাছের খান বলেন, এনআইডি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিকট অভিযোগ করা মার সঙ্গে মামার বাড়ির গল্প করার শামিল। তিনি বলেন, ‘আমার প্রদত্ত তথ্য সব ঠিক আছে, কোথাও কোনো গরমিল নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম শামীম, অ্যাড. সাইফুল ইসলাম মোল্লাসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গাজীপুর-২ আসনে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।