চারদিকে ঈদুল ফিতরের উৎসবের আমেজ। কিন্তু সেই আনন্দের মুহূর্ত বিষাদে পরিণত হয়েছে দুটি পরিবারের। চট্টগ্রাম নগরীর টেরিবাজারের কেবি অর্কিড প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডে উপার্জনক্ষম দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে টেরিবাজারের কেবি অর্কিড প্লাজায় ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে জুতার দোকানের কর্মচারী মুনতাছির সোলায়মান আবিদ (২৮) ও দরজি মোহাম্মদ ইউনুছ (৪৯) প্রাণ হারান।
আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) পরিবার দুটির সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়। মুনতাছির সোলায়মান আবিদের বাড়ি পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পাচুরিয়া গ্রামে। অপরজন মোহাম্মদ ইউনুছের বাড়ি পটিয়ার জিরি সাইদাঁইর গ্রামের মির্জাবাড়িতে।
সোলায়মানের স্বজনেরা জানান, তিনি দিনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে চাকরি করতেন। তবে একটু বাড়তি আয়ের জন্য প্রতিবছর রমজান এলে রাতে কাজ করতেন টেরিবাজারের একটি জুতার দোকানে। সম্প্রতি শ্রমিক হিসেবে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন সোলায়মান।
বছরখানেক আগে বিয়ে করা সোলায়মানের তিন মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। এবার সন্তানের সঙ্গে তাঁর প্রথম ঈদ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডে তাঁর সব স্বপ্ন থেমে গেছে। ঘটনার রাতে সেহরি খেয়ে অর্কিড প্লাজার ষষ্ঠতলায় ঘুমাতে যান সোলায়মান। চতুর্থ তলায় আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে তাঁর মৃত্যু হয়।
সোলায়মানের চাচা আবু বকর মোবাইল ফোনে বলেন, ‘সোলায়মান বছরখানেক আগে বিয়ে করেছিলেন। তার তিন মাস বয়সী একটি শিশুসন্তান রয়েছে। এবারের ঈদই হওয়ার কথা ছিল সন্তানের সঙ্গে তার প্রথম ঈদ। কিন্তু এখন ঈদের আনন্দের পরিবর্তে সোলায়মানের পরিবারে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে।’
একই ঘটনায় আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে মারা যান দরজি শ্রমিক মোহাম্মদ ইউনুছের। তিনি দীর্ঘ দুই যুগ ধরে টেরিবাজারে দরজির কাজ করছিলেন। বাবার কাছ থেকে শেখা পেশাকেই জীবনের অবলম্বন করেছিলেন ইউনুছ। তাঁর তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
ইউনুছের জামাতা মোহাম্মদ রাশেদ জানান, ইউনুছ পাখিজা টেইলার্সে দরজি হিসেবে কাজ করতেন। রমজান মাসে তিনি কর্মস্থলেই অবস্থান করতেন। ঘটনার দিনও তাঁর কর্মস্থলে ছিলেন। কিন্তু আগুন লাগায় ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে তিনি মারা যান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল মান্নান বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়া ভবনের একাধিক তলায় ছড়িয়ে পড়ে। ষষ্ঠতলার মসজিদ থেকে তিনজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়, যাদের শ্বাসকষ্টের কারণ ছিল ঘন ধোঁয়া। সেখান থেকে দুজন মারা যান।’