রাজধানীতে পৃথক স্থান থেকে এক নারীসহ দুজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার নিউমার্কেট ও আজ রোববার সকালে লালবাগ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সহদেবপুর হাজিবাড়ি গ্রামের আব্দুল মালেকের মেয়ে খাদিজা আক্তার (২৩)। তিনি থাকতেন নিউমার্কেট থানাধীন এলিফ্যান্ট রোডের ওয়াজ উদ্দিন টাওয়ারে।
অপরজন মৃত চুন্নু সরদারের (৫০) বাড়ি বরিশালের মুলাদী উপজেলার বাইলাতলী গ্রামে। বাবার নাম মৃত আদালুদ্দিন সরদার। বর্তমানে থাকতেন লালবাগ শহীদনগর ২ নম্বর গলিতে থাকতেন। একটি জুতার কারখানায় চাকরি করতেন।
নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ সূত্রধর বলেন, ওয়াজ উদ্দিন টাওয়ারে ১৪-ডি নম্বর ফ্ল্যাটে ৬-৭ মাস ধরে স্বামী সাকিনের সঙ্গে থাকতেন চাকরিজীবী খাদিজা। বিয়ের পর থেকে তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাননি সাকিন। তিনি প্রায় স্বামীকে বলতেন, তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যেতে। তবে নিয়ে যেতেন না সাকিন। এটি নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো। সাকিন ১৯ ফেব্রুয়ারি খাদিজাকে বাসায় রেখে একাই বাড়িতে চলে যান।
এসআই আরও জানান, ‘শনিবার রাতে ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ওই বাসায় যান। বাড়িওয়ালার মাধ্যমে দরজা ভেঙে ওই তরুণীকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। ধারণা করা হচ্ছে, শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে যেকোনো সময় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। ঢামেকের মর্গে মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এদিকে লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হোসেন বলেন, রোববার সকালে ভাড়া বাসায় ফ্যানের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন চুন্নু সরদার। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। অভাব-অনটনের কারণে তিনি এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।