শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি শেষে টানা আট দিন পর দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আবারও শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার বন্দর খুললেও আজ রোববার থেকে সব ধরনের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।
বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ এবং পণ্য খালাস শুরু হওয়ায় ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে জমে থাকা পণ্যের জট। পণ্য ছাড় ও খালাসে ব্যস্ত সময় পার করছেন আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, কাস্টমস ও বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শ্রমিকেরা।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন জানান, শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি শেষে গতকাল থেকে বন্দর খুলেছে। আজ থেকে সব ধরনের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং ২০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হয়। রেলপথেও পণ্য আমদানি করা হয়। প্রতিদিন বন্দর থেকে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ ট্রাক পণ্য খালাস করা হয়। এসব আমদানি পণ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে শিল্পকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক ও গার্মেন্টস পণ্য, শিশুখাদ্য, মাছ এবং রাসায়নিক পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য। অন্যদিকে রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাট ও পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, রাসায়নিক পণ্য, বসুন্ধরা টিস্যু, মেলামাইন ও মাছ।
তবে ভারত সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেড় বছর ধরে সড়কপথে পাট ও পাটজাত পণ্য এবং তৈরি পোশাক ও গার্মেন্টস সামগ্রী রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শর্তের কারণে সুতা আমদানিও বন্ধ রয়েছে।