হোম > সারা দেশ > ময়মনসিংহ

জরাজীর্ণ টিনশেডের ছাউনি থেকে দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়

আরিফ আহম্মেদ, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)

শ্রেণিকক্ষে শিশুদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ অলি উল্লাহ। শ্রেণিকক্ষের দেয়াল ছবি, বর্ণমালা আঁকা টাইলস সাজানো হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাত্র কয়েক বছর আগেও বিদ্যালয়টি ছিল জরাজীর্ণ ও একটি সাধারণ টিনশেডের ছাউনি ঘর। এখন এটি দেশের একটি দৃষ্টিনন্দন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, অজপাড়াগাঁয়ের এই বিদ্যালয়ে এখন রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ, দেয়ালে দেয়ালে দেশের মানচিত্র, শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, জাতীয় ফুল শাপলা, দোয়েল পাখিসহ নানা চিত্রকর্ম। মাঠে শিশুদের জন্য রয়েছে খেলাধুলার নানা সরঞ্জাম। বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ টাইলস করা। সম্পূর্ণ বিদ্যালয়টি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাধীন। ছাদে রয়েছে বিভিন্ন ফুল ও ফলের বাগান। রয়েছে একটি সমৃদ্ধ ও সুসজ্জিত পাঠাগার। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্ত্যপুর ইউনিয়নের ২৪ নম্বর ডেকুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এটি। গ্রামের শিশুরা এখন আর শহরের স্কুলে দৌড়ায় না। তারা এখন এই স্কুলেই পড়তেই বেশি আনন্দ পায়।

বিদ্যালয়ের এই রূপান্তরের গল্পের পেছনে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ অলি উল্লাহর অনন্য ভূমিকা রয়েছে। ২০১৮ সালে এই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ অলি উল্লাহ দেখতে পান, গ্রামের তুলনামূলক সচ্ছল ও শিক্ষিত পরিবারের ছেলেমেয়েরা ১৫ কিলোমিটার দূরে পৌর শহরের বিভিন্ন স্কুলে পড়তে যায়। দরিদ্র পরিবারের যারা স্কুলে ভর্তি হয়, তারা নিয়মিত স্কুলে আসে না। তিনি কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলেন, এই বিদ্যালয়ের পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষায় পুরো স্কুলেই পানি পড়ে, শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চগুলো ভাঙা, ঠিকমতো ক্লাস হয় না, যে কারণে তাঁরা তাঁদের সন্তানদের শহরের স্কুলে পড়াতে আগ্রহী। এসব কথা শুনে প্রধান শিক্ষক অলি উল্লাহ প্রথমেই সিদ্ধান্ত নেন, যেভাবেই হোক একটি নতুন ভবন লাগবে, তাঁর আগে পুরোনো টিনশেড ভবনটি মেরামত করতে হবে। তৎকালীন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি কাজ শুরু করে দিলেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণের বরাদ্দও পেয়ে গেলেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু এর মধ্যেই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। তখন বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যালয়। কিন্তু থেমে থাকেননি প্রধান শিক্ষক অলি উল্লাহ। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে জরাজীর্ণ টিনশেডের ছাউনি দেওয়া এই বিদ্যালয়কে একটি দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়ে পরিণত করেন তিনি।

ডেকুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ অলি উল্লাহ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যোগদানের পর স্কুলের অবস্থা দেখে অনেকটা হতাশ হয়েছিলাম। কোনো অর্থাৎ বরাদ্দ ছিল না। তাই নিজের বেতনের টাকা দিয়েই কাজ শুরু করেছিলাম। এখন দূরদূরান্ত থেকে অনেকে স্কুলটি দেখতে আসেন। স্থানীয় লোকজন, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও উপজেলা শিক্ষা অফিস সব সময়ই আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছে। ২০২২ সালে এ বিদ্যালয়টি উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে।’

ডেকুরা গ্রামের মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, তাঁর ছেলে এ স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ছেলে স্কুলে চলে আসে, এখন স্কুল তার ভালো লাগে।

গৌরীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা রুবায়াত আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই বিদ্যালয়টি সুসজ্জিত ও আধুনিক একটি বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আন্তরিকতার সঙ্গে স্কুলটি সাজিয়েছেন। এর আগে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ভবিষ্যতে বিদ্যালয়টি জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে কৃতিত্ব অর্জন করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

পূজামণ্ডপে হামলার পর এবার তরুণীকে ধর্ষণের হুমকি, নেওয়া হয়নি ব্যবস্থা

যশোরে খোদ বিচারকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা, বাদী গ্রেপ্তার

নেছারাবাদে পিতৃপরিচয়ের দাবিতে যুবকের দ্বারে দ্বারে ধরনা

মুন্সিগঞ্জে রেস্টুরেন্টে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন

অতিরিক্ত দামে এলপি গ্যাস বিক্রি করায় ব্যবসায়ীর জরিমানা

ইসলামপুরে জ্বালানি তেল না পেয়ে সড়ক অবরোধ

বিদ্যুৎ-চালিত সেচপাম্পের মোটরে কাপড় পেঁচিয়ে নারীর মৃত্যু

মৌলভীবাজারে উপজেলা পর্যন্ত চালু হচ্ছে আইসোলেশন কর্নার

ফেসবুক পেজ ফিরে পেলেন ভাইরাল তাজু ভাই

নোয়াখালীর চাটখিলে আগুনে পোড়ানো মৃতদেহ উদ্ধার