ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে বিয়ে, এরপর নতুন সংসারে আসে কন্যাসন্তান। কিন্তু সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে প্রাণ হারান স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (১৮)। স্ত্রীর মৃত্যুর ১২ দিন পর আজ বুধবার মারা গেছে তাঁদের ১২ দিন বয়সী একমাত্র সন্তান রুমাইসা। ভালোবাসার সংসারের দুই প্রিয় মানুষকে মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন ফেনীর পরশুরামের নিজাম উদ্দিন মিলন। নবজাতক রুমাইসাকে দাফন করা হয়েছে মায়ের কবরের পাশেই।
মিলন পরশুরাম পৌরসভার দক্ষিণ কোলাপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে। তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারের বাড়ি ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের তারাকুচা গ্রামে।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিলন ও সুমাইয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে ২০২৫ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁদের সংসারে প্রথম সন্তান আসে। তবে সন্তান জন্মের সময় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য সুমাইয়াকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে গত ২৪ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।
এরপর নবজাতক মেয়েকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফেরেন। কিন্তু পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শিশুটিকে আবারও হাসপাতালে নেওয়া হয়। আজ বেলা ৩টার দিকে ফেনীর জেড ইউ মডেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ১২ দিন বয়সী রুমাইসা।
স্ত্রী ও সন্তানকে অল্প সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন মিলন। প্রতিবেশী ইসমাইল হোসেন শুভ জানান, মেয়ের মৃত্যুর পর মিলন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে তিনি একেবারে ভেঙে পড়েছেন। এমন ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজ রাত ৮টার দিকে উত্তর কোলাপাড়া মাজার বাড়ি কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশেই দাফন করা হয় নবজাতক রুমাইসাকে। জন্মের পর মায়ের স্নেহ-স্পর্শ পাওয়ার সুযোগ হয়নি তার। শেষ পর্যন্ত মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলো ছোট্ট রুমাইসা।