চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পৌনে ১৪ কোটি টাকার ক্রুড অয়েল গায়েবের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তেল গায়েবের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল শোধনাগারে এই অভিযান চালান দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর কর্মকর্তারা।
দুদকের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছে। সংগৃহীত রেকর্ডপত্রের আলোকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে কমিশন বরাবর দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানান দুদকের এই কর্মকর্তা।
এর আগে এনফোর্সমেন্ট টিম বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছে বলে জানান তিনি।
দুদকের তথ্যে অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা ‘নরডিক স্কিয়ার’ ও ‘নরডিক ফ্রিডম’ নামের দুটি জাহাজ থেকে ক্রুড অয়েল খালাসের সময় স্বাভাবিক ওশান লস বাদ দিয়ে নেট শর্ট লেন্ডিংয়ের বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেন দুদকের টিমের সদস্যরা। এ সময় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
পতেঙ্গা ডলফিন জেটি থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির শোর ট্যাংকে তেল নেওয়ার সময় শর্ট লেন্ডিংয়ের (তেল কমে যাওয়া) ঘটনায় তেলের কোয়ান্টিফিকেশন, যৌথ সার্ভে প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমা বন্দর থেকে ৯৯ হাজার ৮৯৩ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘নরডিক ফ্রিডম’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রামের কুতুবদিয়ায় বহির্নোঙরে পৌঁছায়। এর আগে একই বছরের ২৪ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৪১ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘নরডিক স্কিয়ার’ নামের আরেকটি জাহাজ বাংলাদেশে আসে।
পরে লাইটারেজ জাহাজে করে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গা ডলফিন জেটি থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েল খালাসে প্রায় পৌনে ১৪ কোটি টাকার তেল কমেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।