বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ছাত্রীদের আপত্তিকর ছবি গোপনে ধারণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিকৃত করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিচারের দাবিতে আজ বুধবার (৪ মার্চ) ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিভাগটির সহপাঠীরা। পরে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সহপাঠী ছাত্রীদের ব্যক্তিগত ছবি ওই শিক্ষার্থী তাঁর ব্যক্তিগত ডিভাইসে সংরক্ষণ করে আসছিলেন। সম্প্রতি তাঁর ডিভাইস জব্দ করে সেখানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি এবং এআই ব্যবহার করে সম্পাদিত ছবি পাওয়া যায়।
অভিযোগে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর স্নাতকোত্তর শ্রেণির ভর্তি বাতিল, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং তাঁর স্নাতক শ্রেণির সনদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সম্ভাব্য জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, গতকাল মঙ্গলবার রাতে ইফতারের পর এক মেয়ে বন্ধুর অনুমতি ছাড়াই মোবাইল ফোনে কিছু আপত্তিকর ছবি তোলেন ওই শিক্ষার্থী। মেয়েটি তা দেখে তাৎক্ষণিক তাঁর ফোন চেক করেন। এ সময় তাঁর ফোনে আরও অনেক মেয়ের আপত্তিকর ছবি পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাচের সহপাঠীরা ঘটনাস্থলে চলে আসেন এবং ফোন চেক করে আপত্তিকর ছবি দেখে ক্ষুব্ধ হন। পরে ওই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল দলের সদস্য ও বিভাগের শিক্ষকদের সামনে হাজির করা হয়। ওই ঘটনার বিচার চেয়ে আজ সকালে বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়ে প্রক্টর অফিসের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।
একাধিক ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘পূজার সময় আমাদের একসঙ্গে অনেক কাজ করতে হয় এবং থাকতেও হয়। আমাদের অনেক একক ও দলীয়ভাবে তোলা ছবি ওই শিক্ষার্থীর ফোনে আছে। তিনি আমাদেরও আপত্তিকর ছবি তুলতে পারেন বলে আশঙ্কা করছি। বিষয়টির তদন্ত ও যথাযথ বিচার দাবি করছি।’
ববির ওই বিভাগের চেয়ারম্যান বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ডিভাইস চেক করা হচ্ছে। এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। আমরা ডিভাইসের ছবিগুলো চেক করছি। পরে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সল সাংবাদিকদের বলেন, ববিতে যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল আছে। সেলের সদস্যরা দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন। পাশাপাশি অভিযুক্ত ছাত্র যে ছবি তুলেছেন, সেগুলো বাইরে কোথাও দিয়েছেন কি না কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করেছেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।