চট্টগ্রামের চন্দনাইশে গেজেটধারী জুলাই যোদ্ধা ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির কার্যকরী নির্বাহী সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং মঈন উদ্দীন মাহিনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলার প্রতিবাদে এবং চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমদের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়ক দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে এই ব্লকেড কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক হাজার যানবাহন আটকা পড়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
ব্লকেড কর্মসূচির খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের মহাসড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে দুই ঘণ্টা পর ব্লকেড কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
তবে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁদের দাবি পূরণ না হলে আবারও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চন্দনাইশ উপজেলার বদুরপাড়া রাস্তার মাথা এলাকায় গেজেটধারী জুলাই যোদ্ধা হাসনাত আবদুল্লাহ ও মঈন উদ্দীন মাহিনের ওপর সশস্ত্র হামলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পটিয়া থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাঁদের পথরোধ করে মারধর করে। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
আহতদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের বিএনপিদলীয় প্রার্থীর অনুসারীরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত।
তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমদ এক ভিডিও বার্তায় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে ‘কাল্পনিক ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন।