নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় জমির বিরোধে সংঘর্ষে আহত শাহীন মিয়া (৫৫) পাঁচ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এর আগে গত বুধবার বিকেলে উপজেলার বাউসী গ্রামে প্রতিপক্ষের রামদার কোপে তিনি গুরুতর আহত হন।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাউসী গ্রামের জিয়া মিয়ার পরিবার ও শাহীন মিয়ার পরিবারের লোকজনের মধ্যে জমি নিয়ে পূর্ববিরোধ রয়েছে। গত বুধবার বিকেলে বাউসী বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন শাহীন মিয়া ও তাঁর ছোট ভাই মাসুদ মিয়াসহ কয়েকজন।
পথে আগে থেকেই অস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকা জিয়া, তাঁর ভাই ফারুক ও কাউছার মিয়াসহ অন্যরা শাহীন ও মাসুদের ওপর হামলা চালায়। এতে রামদা দিয়ে কুপিয়ে শাহীন ও মাসুদকে গুরুতর জখম করে। এ সময় তাঁদের বাঁচাতে এলে শাহীন মিয়ার পক্ষের আরও দুজন আহত হন। তবে এ ঘটনায় অপর পক্ষের জিয়া, কাউছারসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। তাঁরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত শাহীন মিয়া ও তাঁর ভাই মাসুদ মিয়াকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাতে অবস্থার অবনতি হলে শাহীন মিয়াকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরে আরও অবনতি হলে পরদিন তাঁকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহীন মিয়ার মৃত্যু হয়।
এদিকে ঘটনার পরদিন গত বৃহস্পতিবার আহত শাহীন মিয়ার চাচাতো ভাই মো. শ্যামল মিয়া বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের জিয়া মিয়া (৪৮), তাঁর ভাই ফারুক মিয়া (৪৪) ও কাউছার মিয়াসহ (৩৮) সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় আগের দেওয়া অভিযোগটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। এদিকে লাশ নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আসামিদের মধ্যে জিয়া ও কাউছার আহত অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছেন। সেখানে পুলিশ তাঁদের নজরদারিতে রাখছে। সুস্থ হলেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে। এ ছাড়া বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।