রাজধানীর ধানমন্ডিতে পূর্ববিরোধ ও ভ্যানভাড়া চাওয়াকে কেন্দ্র করে পিঠা বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। নিহত ভ্যানচালকের নাম রনি খন্দকার (৪৭)। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ধানমন্ডির ৩ নম্বর রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আজ বুধবার অভিযুক্ত রুবেল হোসেন ও বাবুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত রনি খন্দকার বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ খন্দকারের ছেলে। তিনি রাজধানীর হাজারীবাগের বউবাজার এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। তাঁর দুই সন্তান রয়েছে।
নিহত ভ্যানচালকের ছেলে রায়হান খন্দকার সাংবাদিকদের জানান, ধানমন্ডির ৩ নম্বর রোডে পিঠা বিক্রি করতেন রুবেল। সেখানে ভ্যানভাড়া ও পিঠা বিক্রির জায়গা নিয়ে তাঁর বাবার সঙ্গে রুবেলের আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। গতকাল রাতে ভ্যানভাড়া চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রুবেল তাঁর এক সহযোগীকে নিয়ে তাঁর বাবাকে মারধর করেন এবং দোকানে থাকা ছুরি দিয়ে আঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে রুবেল হঠাৎ ছুরি নিয়ে রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পথচারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রনির মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত রনির ছেলে রায়হান খন্দকার বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত রুবেল হোসেন ও তাঁর সহযোগী বাবুরকে গ্রেপ্তার করেছে।