১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা জনিত কারনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে টানা ৩ দিন বন্ধ থাকবে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের সাথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য এবং ১২ ফেব্রুয়ারী ভোটের দিন বন্ধ থাকবে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাতায়াত।
গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাতায়াত বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
এর আগে এদিন বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব কাজী আরিফুর রহমান সাক্ষরিত চিঠিতে বেনাপোলসহ দেশের সব বন্দর দিয়ে ভ্রমনের উপর নিষেধাজ্ঞার চিঠি আসে বন্দর ও ইমিগ্রেশনে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এ কারণে নিরাপত্তা জনিত কারণে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিন বন্ধ থাকছে ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। এ ছাড়া ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ভারত ভ্রমণও বন্ধ থাকছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর প্রথমবারের মতো নির্বাচনের দিন বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রীদের যাতায়াত বন্ধ থাকছে বলে জানতে পেরেছি।
বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী রতন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দিয়ে বৃহস্পতিবার দু’দেশের মধ্যে যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকবে— এমন নির্দেশনার একটি চিঠি আমার দপ্তরে এসেছে। এ ছাড়া বুধ ও বৃহস্পতিবার আমদানি, রপ্তানিও বন্ধ থাকছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টার পর থেকে পুনরায় দু’দেশের মধ্যে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হবে আমদানি-রপ্তানি।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৭ সাল থেকে এ পথে পাসপোর্টযাত্রীরা যাতায়াত শুরু করে। ১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত কখনও চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার বন্ধ হয়নি। ঝড়বৃষ্টি, করোনা কোনো কিছুতেই বন্ধ ছিল না দু’দেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী পারাপার। তবে এবার বিশেষ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।