চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম শামীম (৪০) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের মধ্যভাটের খিল এলাকার তালতলা বেড়িবাঁধের কাছে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শামীম সীতাকুণ্ড পৌরসভার শিবপুর এলাকার আবুল মনসুরের ছেলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আজ বৃহস্পতিবার সকালে দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে অপারগতা জানিয়েছেন তিনি।
নিহত শামীমের ভাই মো. সেলিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ করার কারণে প্রাণভয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমার ভাই শামীম আত্মগোপনে ছিলেন। এতে অভাব-অনটনের কারণে মানবেতর জীবন যাপন করেছিলেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর স্ত্রী সীতাকুণ্ড বাজারে কিছু স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা নিয়ে বাপের বাড়ি যান। স্ত্রীর সঙ্গে শামীমও শ্বশুরবাড়ি যান। বুধবার রাতে ৩০ থেকে ৪০ জনের অস্ত্রধারী একদল সন্ত্রাসী শামীমকে সেখান থেকে ডেকে তালতলা বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে যায়। তারা শামীমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিতের পর বেড়িবাঁধে ফেলে পালিয়ে যায়।’
মো. সেলিম আরও বলেন, তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে অনেক দিন ধরে স্থানীয় জাফর ও ইরানের দ্বন্দ্ব চলছিল। পূর্বশত্রুতার জেরে এ দুজনের নেতৃত্বে তাঁদের অনুসারী সন্ত্রাসীরা শামীমকে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছে বলে ধারণা তাঁর।
ওসি মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম বলেন, যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং যিনি হত্যার শিকার হয়েছেন, তাঁদের কারোরই আগের রেকর্ড ভালো না। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে।