কিডনি প্রতিস্থাপনের নামে রোগীদের তুরস্কে নিয়ে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন নুরুজ্জামান রাজু, যিনি তুরস্কভিত্তিক একটি স্বাস্থ্যসেবা সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মী বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
র্যাব জানায়, রাজু নিজেই একটি ওয়েবসাইট খুলে কিডনি প্রতিস্থাপনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে একটি চক্র রোগীদের তুরস্কে পাঠিয়ে সেখানে জিম্মি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিত।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মিরপুরে র্যাব-৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার কে এন রায় নিয়তি বলেন, ২০২৩ সালে ঢাকার গুলশানে অফিস নিয়ে ‘টার্কিশডক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরু করে। সেখানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন রাজু। তবে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম বন্ধ করে দিলে রাজু একই স্থানে অফিস খুলে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন। পরে তিনি আসল প্রতিষ্ঠানের হুবহু নকল করে ‘টার্কিশডক বিডি’ নামে একটি ওয়েবসাইট খুলে প্রতারণা শুরু করেন।
র্যাবের দাবি, এরপর থেকে রাজুর চক্রটি কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য বিপুলসংখ্যক রোগীকে তুরস্কে পাঠিয়ে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ আদায় করতে থাকে।
সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে নিরব নজরুল লিখন নামে এক ব্যক্তি তাঁর মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য রাজুর সঙ্গে ২৩ হাজার ডলারে চুক্তিবদ্ধ হন। পরে মাকে নিয়ে তুরস্কে যাওয়ার পর ধাপে ধাপে তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আদায় করা হলেও কিডনি প্রতিস্থাপন না করেই তাঁদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় লিখন ঢাকার শ্যামপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তে নেমে র্যাব নুরুজ্জামান রাজুসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন—মাসুম বিল্লাহ, মোহাম্মদ তরিকুল, সালমান ফারসি ও ওয়ালিদ মিয়া।
কোম্পানি কমান্ডার কে এন রায় নিয়তি বলেন, চক্রটির মাধ্যমে তুরস্কে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে কয়েকজন বাংলাদেশি কারাবাসও করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন—এমন আরও কয়েকটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। পরবর্তী তদন্তে বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে।’
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে এই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাজু শতাধিক রোগীকে তুরস্কে পাঠিয়েছেন। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন ভুক্তভোগী র্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। প্রতারণার অর্থে তিনি ঢাকায় বাড়ি ও গাড়ি করেছেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
ভুক্তভোগী নিরব নজরুল লিখন বলেন, ‘আমার মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য ২৩ হাজার ডলারে চুক্তি হয়েছিল। এর একটি অংশ বাংলাদেশে দেওয়ার পর আমরা তুরস্কে যাই। সেখানে যাওয়ার পর নানা অজুহাতে বিলম্ব করা হয়, এমনকি রোগীকে নিয়মিত ডায়ালাইসিসও দেওয়া হচ্ছিল না।’ তিনি অভিযোগ করেন, পরে প্রায় ৪০ হাজার ডলারের একটি কাগজে সই নেওয়া হয় এবং কয়েক ধাপে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৪৬ হাজার ডলার নেওয়া হয়। দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে রাজু তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন। পরে বাধ্য হয়ে তিনি থানায় মামলা করেন।