ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দী ও সাভারের আলোচিত ‘সিরিয়াল কিলার’ মশিউর রহমান খান সম্রাট (৪০) মারা গেছেন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, কারাগার থেকে কারারক্ষীরা অচেতন অবস্থায় ওই বন্দীকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। এরপর চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল সোমবার বিকেলে মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে সাভার এলাকায় কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন সম্রাট। চলতি বছর ১৮ জানুয়ারি সাভারের পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুটি লাশ উদ্ধার হয়। ওই ভবনের সামনে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখে সম্রাটকে আটক করা হয়। এরপরই সিরিয়াল খুনের সঙ্গে সম্রাটের জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসে।
তদন্তে নেমে পুলিশ তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়ে গ্রেপ্তার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সিরিয়াল অনুযায়ী ছয়টি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে আদালত তা গ্রহণ করে তাঁকে কারাগারে পাঠায়।
পুলিশ সূত্র জানায়, সম্রাট প্রথম খুন করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক বৃদ্ধকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ওই বছরের ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক যুবককে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেন। এর প্রায় এক মাস পর ১১ অক্টোবর আরও এক নারীর লাশ উদ্ধার হয় কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে। তাঁকেও সম্রাট হত্যা করেন বলে জানিয়েছেন। গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ওই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে আরও এক যুবককে হত্যা করেন সম্রাট। সর্বশেষ চলতি বছর এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর তাঁদের দেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন।
পুলিশ জানায়, সম্রাট দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সাভার থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন। একেক দিন একেক রকম পোশাক পরতেন। তিনি কিছুটা অগোছালো কথাবার্তা বলতেন, এ কারণে সবাই তাঁকে পাগল মনে করতেন। তবে তিনি পাগল নন।