হোম > সারা দেশ > কুড়িগ্রাম

সরকার বদলায়, কিন্তু শালজোড়ের মানুষের ভোগান্তি শেষ হয় না

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে কালজানি নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নের শালজোড় এলাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

একটি সেতুর জন্য কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সীমান্তবর্তী শিলখুড়ি ইউনিয়নের শালজোড়ের কয়েক হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যুগের পর যুগ। দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে কালজানি নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন শিলখুড়ি ইউনিয়নের শালজোড় এলাকা। সেখানকার হাজার হাজার মানুষকে হাটবাজার, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা সদর এমনকি জেলা শহরে যেতে হলে সারা বছর জানমালের ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড়ি দিতে হয়। এতে একদিকে নষ্ট হয় সময়, অপর দিকে আর্থিক ক্ষতি হয়। সেতুর অভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ওই এলাকার উন্নয়ন। নির্বাচন আসে, সরকার পরিবর্তন হয়, কিন্তু শালজোড়ের মানুষের দুঃখ ঘোচে না।

সাবেক ইউপি সদস্য ইসরাফিল হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাতের বেলা কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে পড়তে হয় মহাবিপদে। সেতু না থাকায় অসুস্থ ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয় না। চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার পথে কালজানি নদীর ঘাটে অসুস্থ মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা যেমন আছে, তেমনি আছে বরযাত্রী নিয়ে নৌকাডুবির ঘটনা। এ ছাড়া কালজানি নদীতে প্রতিনিয়ত ছোটখাটো নৌ দুর্ঘটনা ঘটে।

অর্ধশতাব্দীর অধিক সময় ধরে নদীবিচ্ছিন্ন এলাকায় বাস করা বৃদ্ধ বেলাল হোসেন বলেন, ‘বাপ-দাদা পালতোলা নৌকা ও লগি-বৈঠার সাহায্যে ডিঙি নৌকায় কালজানি নদী পার হয়েছেন। বর্তমানে আমরা ডিজেল ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে নদী পার হচ্ছি।’

শহীদ আলী বলেন, ‘বর্ষাকালে ছেলে-মেয়েরা যখন ডিজেল ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ভরা কালজানি নদী পার হয়, ভয়ে তখন বুকটা ধুকপুক করে। কালজানি নদীতে একটা সেতু হলে নদী পারাপার নিয়ে আর দুশ্চিন্তা থাকত না। মরার আগে কালজানির ওপর একটা সেতু দেখে যেতে পারলে ভালো লাগত।’

আব্দুল খালেক বলেন, ‘কৃষকদের ফসল বিক্রি করার জন্য হাটবাজারে নিতে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেই সঙ্গে কৃষিপণ্য সার, বীজ, তেল ও কীটনাশক পরিবহনে অধিক সময় ব্যয় হয়। সেতু থাকলে এই সমস্যা থাকত না।’

আব্দুল মোতালিব বলেন, সেতু না থাকায় শিক্ষার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। প্রতিদিন নৌকায় করে নদী পারাপারের ঝুঁকি, হাঁটার ঝামেলা ও যানবাহন সমস্যার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দ্রুত বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে যান। শিক্ষক স্বল্পতায় পিছিয়ে পড়া এই এলাকার শিশুরা শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও পিছিয়ে পড়ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা অর্জনের জন্য নদীবিচ্ছিন্ন এলাকার ছেলে-মেয়েদের প্রতিদিন নৌকায় নদী পাড়ি দিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যেতে হয়। প্রাথমিকের পরই থেমে যায় অধিকাংশ মেয়েশিশুর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েশিশুদের উচ্চশিক্ষা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বাড়ছে বাল্যবিবাহের সংখ্যা।

সাইফুর রহমান বলেন, ‘নৌকার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। জরুরি প্রয়োজনে নদী পার হতে দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হয়। রাত ১০টার পর নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখন আর বাড়ি ফেরা সম্ভব হয় না। অনেক সময় ১০ টাকার নৌকা ভাড়া ১০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হয়। এমনও হয় ১ হাজার টাকাও দেওয়া লাগে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মামুন বলেন, ‘তিন দিকে নদীবেষ্টিত ভারতীয় ভূখণ্ডের সঙ্গে লাগোয়া এলাকায় আমরা বসবাস করি। দেশের যেকোনো সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিলে এখানকার মানুষ নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্কে ভোগেন।’

কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নদীবিচ্ছিন্ন এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনা হবে।

৮ হাজার আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্বরাষ্ট্রের সম্মতি ছাড়াই

গাংনীতে দুটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার

ভিজিএফ কার্ডের ভাগ না পাওয়ায় বকশীগঞ্জে ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যানকে মারধরের অভিযোগ

কাজে এসে নিখোঁজ রাজমিস্ত্রি, ১৮ দিন পর শ্মশানঘাটে মিলল মরদেহ

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি: সাবমেশিনগানসহ তিন অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

ঢাকায় আজ বেড়েছে গরম

মাদারীপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষের বসতঘরে আগুন

টাঙ্গাইলের সিল্ক শিল্প: দিনরাত ব্যস্ত কারিগরেরা

নিবন্ধিত অটোরিকশা তিন হাজার, চলে ২৩ হাজার

ইছামতী-হুরাসাগর নদ এখন ধানের খেত