রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানারে ইফতার মাহফিল করার খবর পাওয়া গেছে। মাহফিলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে নেতা-কর্মীদের শপথ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহীতে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন হয় বলে জানা গেছে। রাতে নেতা-কর্মীরা শপথ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করতে থাকেন। এই নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর নড়েচড়ে বসেছে আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
এ ছাড়া ইফতার মাহফিলে কারাবন্দী সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারকে মুক্ত না করা পর্যন্ত রাজপথে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন দলটির নেতা-কর্মীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের একটি মিলনায়তনে এই ইফতারের আয়োজন করা হয়। তবে অন্য অনুষ্ঠানের কথা বলে মিলনায়তনটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। পরে সেখানে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে ইফতার ও শপথবাক্য পাঠ করা হয়।
শপথবাক্য পাঠ করান ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা। অনুষ্ঠানে ৬০-৭০ জন উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সবাই তৃণমূলের নেতা-কর্মী। তবে দলীয় বড় কোনো নেতা সেখানে ছিলেন না।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজশাহী মহানগর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী বলেন, আওয়ামী লীগের এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ। তারা কোনোভাবেই ব্যানার নিয়ে ইফতার পার্টি করতে পারে না।
প্রশাসনের উচিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। তা না হলে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রতিহত করতে মাঠে নামবে। তখন নানা রকম সমালোচনা হবে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইফতার পার্টি করার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। আমরা এ ধরনের কোনো কিছু জানি না। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।’