নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা
নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার সামনে থেকে কিশোরীকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনার মামলায় মূল অভিযুক্তসহ ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত এজাহারনামীয় এই ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন— মূল অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ নূরা এবং সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান, আহম্মদ আলীর ছেলে ইমরান দেওয়ান এবং মো. এবাদুল্লাহ, আইয়ুব আলী, মো. গাফফার ও হযরত আলীকে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানিয়েছেন, কিশোরী হত্যার ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তাদের মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগে চারজনকে এবং সালিসকারী হিসেবে স্থানীয় মেম্বার বিএনপি নেতাসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, মাধবদীর কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মূল আসামি নূরাকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে নরসিংদী পুলিশ। একই সময় ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অপর আসামি হযরত আলীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার হয়েছে আরও পাঁচজন। এ পর্যন্ত মোট সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
এর আগে মাধবদী থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে পাঁচ আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়। পরে নরসিংদী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেছকাতুল ইসলাম ১ মার্চ রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। পরে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরীর মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহত কিশোরীর পরিবার মাধবদীতে ভাড়া থাকে। তাদের স্থায়ী ঠিকানা বরিশালে। ওই কিশোরীর বাবা ও ভাই স্থানীয় একটি টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জন তরুণ ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার বিচারের জন্য কিশোরীর পরিবার স্থানীয় মহিষাশুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যান।
পরিবারের অভিযোগ, সাবেক ওই ইউপি সদস্য সুষ্ঠু বিচার না করে উল্টো অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কিশোরীর পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। বিচার না করায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
এমন অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে গত বুধবার রাতে ওই কিশোরীকে তার খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন তাঁর বাবা। পথে নূরার নেতৃত্বে ৬ তরুণ পথ রোধ করে বাবার কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর বৃহস্পতিবার সকালে বিলপাড় ও দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষাখেতে কিশোরীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। পরে পুলিশ কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে।
আলোচিত এ ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) রেজাউল করিম মল্লিক। তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা ও ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, বেশ আগে থেকেই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক কিছু ঘটলেও ভুক্তভোগীর পরিবার হত্যাকাণ্ডের আগে থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। আগে পুলিশকে জানালে পরিস্থিতি এ রকম হতো না। তিনি আরও বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন এক ফেসবুক পোস্টে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।