সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তাঁর পরিবার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিপুল সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিসিভার (সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক) নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ নির্দেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দেন বলে জানান দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ।
দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান সাবেক ভূমিমন্ত্রীর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিসিভার নিয়োগের নির্দেশ চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদন অনুযায়ী আদালত ঢাকার গুলশানের দুটি ফ্ল্যাট, চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গার ১০টি ফ্ল্যাট, চট্টগ্রামের কালুরঘাটের সাতটি শিল্পকারখানা, চট্টগ্রামের একটি মার্কেট ভবন ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে থাকা বিভিন্ন আয়তনের ২৭ খণ্ড জমি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিসিভার নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঢাকার দুটি ফ্ল্যাট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটকে ও চট্টগ্রামের জমি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাকে এবং অন্যান্য সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে রিসিভার নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব সম্পদ থেকে যা আয় হবে, প্রতি ছয় মাস অন্তর আদালতকে জানাতে হবে বলে আদালত আদেশে উল্লেখ করেছেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রীর এসব সম্পদ ২০২৪ সালের ২ ও ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ সালের ৯ মার্চ ও ৫ অক্টোবর আদালতের নির্দেশে ক্রোক করা হয়। ক্রোক করা সম্পত্তিসমূহের রিসিভার নিয়োগ না থাকায় সম্পত্তিসমূহ বেহাত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বিধায় উল্লিখিত ক্রোক করা সম্পত্তিসমূহ পরিচালনার জন্য রিসিভার নিয়োগ করার আবশ্যকতা রয়েছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক, বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।