হোম > সারা দেশ > মৌলভীবাজার

জ্বালানি সংকট: চা উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেল সংকটে এবার মৌলভীবাজারে চা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশের চায়ের রাজধানীখ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে কয়েক দিন ধরে চলা জ্বালানি তেল সংকট এই অঞ্চলেও দেখা দিয়েছে। ফলে চা-বাগানের মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তেল সংকট থাকায় চা-বাগানে উৎপাদনকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল না পাওয়ায় চা-পাতা ক্যারিংসহ বিভিন্ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ সংকট আরও কিছুদিন চলতে থাকলে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে বাগানমালিকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৌলভীবাজারে এত দিন তেলের সংকট থাকলেও তা তীব্র ছিল না। কয়েক দিন ধরে জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সংকটের মধ্যে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে পাম্পমালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে গাড়ির বৈধ কাগজ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে তেল বিক্রি না করার জন্য।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা গেছে, জেলার পেট্রলপাম্প মালিকদের নিয়ে গতকাল রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক মতবিনিময় করছেন। এ সময় পেট্রলপাম্পের পরিচালকেরা তাঁদের সমস্যার কথা অবগত করেছেন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে পেট্রলপাম্পে ট্যাগ অফিসার মোতায়েন করা হয়েছে। তদারকি অভিযান বৃদ্ধি করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গলে তিনটি প্রধান তেলের ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন পেট্রলপাম্প পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডিপো থেকে দু-তিন দিন পরপর তেল দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ সময়ের তুলনায় তেলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আগে একটা পেট্রলপাম্পে প্রতিদিন ২ হাজার লিটার পেট্রল বিক্রি হতো।

সরেজমিনে জেলার কয়েকটি পেট্রলপাম্পে দেখা যায়, কোনো পাম্পে তেল বিক্রি হচ্ছে, আবার কোথাও তেল নেই। তবে বেশির ভাগ পাম্পে তেল নেই। যখন তেল আসে তখন কয়েক ঘণ্টায় তা শেষ হয়ে যায়। বেশির ভাগ পাম্পে মোটরসাইকেল নিয়ে তেল কেনার জন্য ভিড় করছেন চালকেরা। কোনো পাম্পে ২০০ টাকা, আবার কোথাও ৩০০ টাকায় তেল বিক্রি হচ্ছে। তবে তেলের সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার মোটরসাইকেলচালকেরা।

শ্রীমঙ্গলের একটি পাম্পের ম্যানেজার মো. আবুল হাসান জুমন বলেন, ‘আমি গত বৃহস্পতিবারে ৪ হাজার লিটার তেল পেয়েছি। এরপর আজ পর্যন্ত ডিপো থেকে তেল পাইনি। আমাদের সংকটের কথা জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমাদের পাম্পে সাধারণ সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে।’

চা-বাগানে তেলের সংকট নিয়ে শমশেরনগর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘এখনো চা উৎপাদন পুরোপুরি শুরু হয়নি, আগামী ১০-১২ দিন পর পুরোপুরি চা উৎপাদন শুরু হবে। এখন তেলের সংকট রয়েছে। যদি মৌসুমের শুরুতে তেল সংকট থাকে, তাহলে চা উৎপাদন ব্যাহত হবে। বাগান থেকে চা-পাতা সংগ্রহ করে গাড়িতে আনতে আমাদের তেলের প্রয়োজন হয়।’

সার্বিক বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘আমরা আজ (রোববার) পেট্রলপাম্প মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। এ ছাড়া ইতিমধ্যে পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার মোতায়েন করা হয়েছে। পেট্রল পাম্পগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তদারকি করা হয়েছে।’

প্রথম দিনেই ৪০ স্কুলের শিক্ষার্থীরা খাবার পায়নি

স্বপ্নের ইউরোপ এখন সুনামগঞ্জের কান্না

পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটে ভয় আর দুশ্চিন্তাই নিত্যসঙ্গী

নড়বড়ে বাঁধে কৃষকের উদ্বেগ

পাবিপ্রবিতে উপাচার্য নেই ১৫ দিন, প্রশাসনে স্থবিরতা

তেল না পেয়ে রাজধানীতে মহাসড়ক অবরোধ বাইকারদের

খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাসুম, সম্পাদক নান্নু

আইসিইউ থেকে বের হতেই সংকটে হাম আক্রান্ত শিশু, এবার সিরিয়াল ৩৬

কেরানীগঞ্জে পুলিশ সদস্যের বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

ডোবায় ডুবে যমজ শিশুর মৃত্যু