ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ নিয়ে পঞ্চগড়ে শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৬ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১১ জানুয়ারি) বেলা ২টায় ‘বাংলাদেশপন্থী শিক্ষার্থী’দের ব্যানারে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলকারীরা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় চৌরঙ্গী মোড়ে গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সেনাবাহিনী তাঁদের ওপর লাঠিপেটা করেছে। এতে অন্তত ২৬ জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বির সমাপনী বক্তব্য চলাকালে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে সেনাসদস্যরা তাঁদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে লাঠিপেটা শুরু করেন।
আহতদের মধ্যে সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী, মোকাদ্দেসুর রহমান সান, আতিকুর রহমান, মজাহারুল ইসলাম সেলিম, খোরশেদ মাহমুদ, মাহফুজুর রহমানসহ অন্তত ১৩ জনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইদ্রাশিশ সান্যাল অঙ্কুর জানান, ২৬ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বাকি ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাঁদের অধিকাংশের শরীরেই ‘ব্লান্ট ইনজুরি’ (আঘাতজনিত জখম) রয়েছে।
পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক বলেন, ‘দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধ থাকায় জনদুর্ভোগ লাঘবে আমাদের সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়। সরিয়ে দেওয়ার সময় হয়তো কারও কারও ওপর লাঠির আঘাত লাগতে পারে।’