গাজীপুরের কালীগঞ্জে মো. হক নামের অপহৃত এক যুবককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মিঠু পাঠান (৪০) নামের এক ব্যক্তিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিঠু একজন সন্ত্রাসী এবং তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ১৭টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার দেওপাড়া এলাকা থেকে অপহৃত যুবককে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল এবং পাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার অপর তিনজন হলেন মিঠু পাঠানের ছেলে জাহিদ হাসান ওরফে তামিম (১৯), সাগর (২৫) ও কনক মিয়াকে (২১)। কনক মিয়ার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। তাঁদের সবার বিরুদ্ধে অপহরণের ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে।
আজ শনিবার কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মো. হক (২৪) একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী। শুক্রবার রাতে তিনি কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিলেন। পথে উপজেলার মূলগাঁও এলাকায় পৌঁছালে তাঁকে একদল অপহরণকারী তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে মূলগাঁও চৌকিদার বাড়ির পেছনে একটি নির্জন বাগানে নিয়ে আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ সময় ওই যুবক তাঁর কাছে থাকা চার হাজার টাকা দিলেও অপহরণকারীরা সন্তুষ্ট না হয়ে আরও ১০ হাজার টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। নিরুপায় হয়ে ওই কর্মী তাঁর স্ত্রীকে ফোন কল করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলেন। পরে বিষয়টি থানায় জানানো হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গভীর রাতে তাঁকে উদ্ধার করে এবং জড়িত অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
এ দিকে পুলিশ পৃথক একটি অভিযানে পানোজোড়া এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য ইয়াবাসহ সানি মিয়া (২২) ও জাহিদুল (২৬) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন মাসের কারাদণ্ড দেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জাকির হোসেন জানান, অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন করবে।