হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক উপজেলা পরিষদ ও সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
চারটি ইউনিয়নের আটটি প্রকল্পে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ আমলি আদালতে মামলাটি করা হয়। দুদকের সমন্বিত হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মামলাটি করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে লাখাই উপজেলার করাব, বুল্লা, বামৈ ও মুড়িয়াউক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বিভিন্ন ওয়ার্ডে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের জন্য কাবিখা প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে তদন্তে দেখা যায়, প্রকল্পগুলোর বাস্তব কাজ না করে অথবা নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
মামলায় আসামিরা হলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুশফিউল আলম আজাদ, সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আলী নুর, বুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান খোকন চন্দ্র গোপ, করাব ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস, মুড়িয়াউক ইউপি চেয়ারম্যান নোমান মিয়া ও বামৈ ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন ফুরুক।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মুড়িয়াউক ইউপির দুটি প্রকল্পে ১২ লাখ টাকা, বুল্লা ইউপির দুটি প্রকল্পে ৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, করাব ইউপির দুটি প্রকল্পে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বামৈ ইউপির দুটি প্রকল্পে ৫ লাখ ২৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বামৈ ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন ফুরুক বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়মে জড়িত না। তদন্তে প্রমাণ মিললে অর্থ ফেরত দিতে প্রস্তুত আছি।’
বুল্লা ইউপির চেয়ারম্যান খোকন চন্দ্র গোপ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। কাজ শেষের পর বন্যার কারণে সড়কের ক্ষতি হওয়ায় কাজ কম মনে হতে পারে।
সাবেক পিআইও আলী নুর বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষে দীর্ঘ সময় পর পরিমাপ করলে মাটির পরিমাণ কম দেখা যাওয়া স্বাভাবিক।
দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশে প্রকৌশলীদের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর মামলাটি করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে ২০২৪ সালের জুনে এ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।