প্রতিবছরই ঈদ সামনে রেখে সড়কে ঘরমুখী মানুষের ঢল নামে। কর্মস্থল থেকে বাড়ির পথে যাত্রা করে লাখ লাখ মানুষ। কিন্তু রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশ ও বহির্গমন পথ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের একটি বড় অংশে চলমান এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ এবারের ঈদযাত্রাকে কঠিন করে তুলতে পারে। সড়কের বিভিন্ন অংশ সংকুচিত ও ভাঙাচোরা হয়ে পড়েছে, অনেক জায়গায় ছড়িয়ে আছে নির্মাণসামগ্রী। ফলে ঈদে ঘরমুখী মানুষের বাড়ি ফেরায় দুর্ভোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রুট আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল ও নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক। আশুলিয়া ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমিক প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গ ও ঢাকামুখী পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপও থাকে অনেক। কিন্তু এই দুই সড়কের বিভিন্ন অংশে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আব্দুল্লাহপুর থেকে বাইপাইল এবং বাইপাইল থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে নির্মাণকাজ চলছে। কোথাও সড়কের মাঝখানে পিলার নির্মাণ, কোথাও বালু-পাথর ও লোহার রড ছড়িয়ে আছে। আবার কোথাও ট্রাক, ক্রেন ও ভারী যন্ত্রপাতি দাঁড়িয়ে রয়েছে। অনেক জায়গায় সড়কের এক পাশ বন্ধ রেখে কাজ করায় কার্যত এক লেন দিয়েই যান চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সামান্য চাপ বাড়লেই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
বিশেষ করে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর থেকে বাইপাইল অংশের অবস্থা বেশি খারাপ। নরসিংহপুর থেকে শিমুলতলা পর্যন্ত সড়ক ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা। শিমুলতলা এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। আবার জামগড়া এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়কের মাঝেই ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব কারণে সড়কের এই অংশে নিয়মিত যানজট লেগে থাকে বলে জানান চালক ও স্থানীয়রা।
পেশাগত কারণে প্রতিদিনই এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন চালক আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের কারণে এ সড়কে যানজট লেগেই থাকে। ফলে এখানে ঘণ্টায় পাঁচ থেকে ১০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি চালানো সম্ভব হয় না। স্বাভাবিক অবস্থায় আব্দুল্লাহপুর থেকে বাইপাইল যেতে যেখানে আধা ঘণ্টা লাগে, এখন সেখানে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যায়।
সাভার হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শাজাহান বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের কারণে সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি ঈদে ঘরমুখী মানুষকে চরম দুর্ভোগে ফেলতে পারে। ঈদের আগে কয়েক দিন নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা এবং সড়কের সরু অংশগুলো প্রশস্ত করার বিষয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সহকারী নির্মাণ ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে নির্মাণসামগ্রী সড়ক থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক প্রশস্ত করার কাজও চলমান রয়েছে। যেসব স্থানে বর্তমানে এক লেন রয়েছে, সেগুলো দুই থেকে তিন লেনে উন্নীত করার কাজ করা হচ্ছে।