রাজশাহীর বাগমারার চাঞ্চল্যকর মনোয়ার হোসেন বাবু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে মামলার সব আসামি বেকসুর খালাস পেয়েছেন। মামলাটিতে জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও আসামি ছিলেন। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. শামসুল আল্-আমীন রায় ঘোষণা করেন।
মামলাটিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ছাড়াও আসামি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও প্রয়াত সংসদ সদস্য নাদিম মোস্তফাসহ দলটির আরও কয়েকজন নেতা। অন্য আসামিরা জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে। এদের মধ্যে ছিলেন জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড বাগমারার মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে কিলার মোস্তাক, দুর্ধর্ষ জেএমবি ক্যাডার মাহাতাব খামারু ও আবদুল মতিন ওরফে বোমারু মতিন।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁরা ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সর্বহারা নিধনের নামে ৩০ বছরের যুবক মনোয়ার হোসেন বাবুকে বাগমারার একটি মাঠে তাড়া করে ধরে পলাশি গ্রামে নিয়ে যান। এরপর সেখানে তাঁকে প্রকাশ্যে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে তাঁরা ‘বাংলা ভাই জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে হামিরকুৎসা গ্রামে জেএমবির ক্যাম্পের দিকে চলে যান। এ ঘটনায় নিহত মনোয়ার হোসেনের বাবা মহসিন আলী অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন।
আদালতের পেশকার মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, মামলায় মোট ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছিল। এর মধ্যে ছয়জন বিচার চলাকালে মারা যান। বাকি ৪৪ জনের মধ্যে ১২ জন দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন। অন্য ৩২ জন আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতেন। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার দিন আদালতে ৩০ জন হাজির ছিলেন। শুধু হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও শাহাদ আলী নামের একজন অনুপস্থিত ছিলেন। রায়ে আদালত সবাইকেই খালাস দিয়েছেন।
রাজশাহী জেলা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রইসুল ইসলাম বলেন, পুলিশ প্রথমে এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময় ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় বিএনপির প্রভাবশালী নেতাসহ অন্যদের অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
রইসুল ইসলাম বলেন, মামলাটিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপি নেতাদের জড়ানো হয়েছিল। বিচার চলাকালে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁদের কেউই আসামিদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনতে পারেননি। তাই আদালতের রায় সঠিক আছে।