নির্বাচনী প্রচারে জমে উঠেছে চট্টগ্রাম-৭ ও ১৪ আসন। দিনরাত নানান প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রার্থীরা হাজির হচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে। জনসভা ও উঠান বৈঠকে উঠে আসছে প্রতিপক্ষের অতীত কর্মকাণ্ডসহ নানান ইস্যু।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-দোহাজারী) আসনে জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের ছেলে ওমর ফারুক। ছেলের পক্ষে ভোট চাচ্ছেন অলি।
নির্বাচনী প্রচারে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমদের সমালোচনা করছেন দলটির দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী অলি আহমদ। বিভিন্ন জনসভায় জসিমের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অর্থনৈতিক অবস্থা, ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। এক কর্মসূচিতে অলি আহমদ বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি শহীদ জিয়ার বিএনপি নয়, খালেদা জিয়ার বিএনপি নয়। বর্তমান বিএনপি লুটেরাদের বিএনপি, ঋণখেলাপিদের বিএনপি, চাঁদাবাজদের বিএনপি। আমার আগে চন্দনাইশে উন্নয়নের একটি ইটও কেউ স্থাপন করেননি।’ বিএনপির প্রার্থীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ইবা (বিএনপির প্রার্থী) মানুষের জায়গা, বিল্ডিং কেমনে খাবেন, এটা ভালো বোঝেন।’
তবে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপির প্রার্থী জসিম। তিনি বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নের জন্য ভোটাররা আমাকে বেছে নেবেন।’
এদিকে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী। আসনটিতে তাঁর বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী একাধিকবার এমপি ছিলেন। চৌধুরী পরিবারের সঙ্গে জামায়াতের বরাবরই ভালো সম্পর্ক ছিল। এবার আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন ডা. এ টি এম রেজাউল করিম চৌধুরী। তাঁর সমালোচনা করছেন হুমাম। তিনি বলেন, ‘আজকে জামায়াত শহীদের (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী) সন্তান নিয়ে কথা বলেন। ওনার (জামায়াত প্রার্থী) নেতারা যখন ফাঁসিতে ঝুলছিলেন ভুলে গেছেন উনি? ১৭ বছর ধরে আমরা লড়াই করলাম গণতন্ত্রের জন্য, স্বাধীনতার জন্য। এখন ক্ষীর খাওয়ার জন্য চলে এল দাঁড়িপাল্লা। রাঙ্গুনিয়ায় হুমাম কাদেরের পাল্লাই ভারী।’
এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জামায়াতের প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিম বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়ার ভূমিপুত্র হিসেবে আমি আমার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি। আমার অবস্থান বেশ ভালো। এই কারণে হয়তো উনি আমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন।’