ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় যুবক মিলন হাওলাদার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মো. মাসুম সরদারকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) ঢাকার সাভার এলাকায় যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৮, বরিশাল ও র্যাব-৪, মিরপুরের একটি যৌথ অভিযানকারী দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালায়। গ্রেপ্তার মাসুম সরদার ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার আদাখোলা গ্রামের মো. আউয়াল সরদারের ছেলে।
র্যাব জানায়, ৪ এপ্রিল দুপুরে রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের আদাখোলা গ্রামে হাবিবুর রহমান হিজবুল্লাহ জামে মসজিদের সামনে মিলন হাওলাদারকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত মিলনের ভাই বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে অভিযুক্ত মাসুম সরদার আত্মগোপনে ছিলেন এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়ানোর চেষ্টা করেন। পরে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাভার থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে রাজাপুর থানার পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে আসে।
র্যাব-৮, বরিশালের কোম্পানি অধিনায়ক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান (পিপিএম-সেবা) এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মজুতদারি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযানকারী কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র্যাব ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে নিহত মিলন হাওলাদারের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, পূর্ববিরোধের জেরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, প্রধান আসামিকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর রাজাপুর থানায় আনা হয়েছে। তাঁকে আগামীকাল সোমবার সকালে আদালতে পাঠানো হবে।