গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়ে খুলে নিয়ে যাওয়া সেই সেতুর ইট ও রড ইউনিয়ন পরিষদকে ফেরত দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোকলেছুর রহমান মণ্ডল। এরপর সেতুটির সব ইট ও রড নিলামে তোলা হয়। আজ বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও নিলাম কমিটির প্রধান মো. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সেতুসংলগ্ন নাজিম উদ্দিনের বাড়ির উঠানে এ নিলাম হয়।
মোকলেছুর রহমান মণ্ডল উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ওই ইউনিয়নের বজরা হলদিয়া গ্রামের মৃত নুরুল হক মণ্ডলের ছেলে। মাসখানেক আগে টেন্ডার ছাড়াই ইউনিয়নের একটি পুরোনো সেতু ভেঙে ইট ও রড নিজের বাড়িতে নিয়ে যান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চেয়ারম্যান তাঁদের অভিভাবক। আর তিনিই যদি এ ধরনের দুর্নীতি করেন, তাহলে তাঁরা কোথায় যাবেন। ইউপি চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও তুলেছেন তাঁরা। পাশাপাশি গ্রামবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে দ্রুত বিকল্প রাস্তা নির্মাণ ও ঝুলন্ত পুরোনো সেতুটি অপসারণের দাবি জানান।
পিআইও মশিউর রহমান বলেন, স্টিমিট অনুযায়ী সেতুটিতে ১৭ হাজার ৩৭৫টি ইট ও ১০৭৩ দশমিক ৮৮ কেজি রড থাকার কথা রয়েছে। সেতু থেকে খুলে নিয়ে যাওয়া ইট ও রডগুলো ইতিমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছে দিয়েছেন। স্টিমিট অনুযায়ী মালামাল বুঝে দেবেন মর্মে লিখিত কাগজও নেওয়া হয়েছে চেয়ারম্যানের কাছ থেকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘ওই চেয়ারম্যান টেন্ডার ছাড়াই পুরোনো সেতু ভেঙে ইট ও লোহা তাঁর বাড়িতে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি আমরাও জানতাম না। পরে গণমাধ্যমে বিষয়টি জানি। এরপর খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাই। আইনগতভাবে কাজটি উনি ঠিক করেননি। সে কারণে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজীবপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার আলম মিয়ার বাড়ি-সংলগ্ন একটি সেতু ছিল। পুরোনো হলেও ওই সেতু দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করত। কিন্তু মাসখানেক আগে টেন্ডার ছাড়াই ওই সেতুর অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙে ইট ও লোহাগুলো চেয়ারম্যান মোকলেছুর তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। বর্তমানে সেতুটি শূন্যে ঝুলে থাকায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। চার গ্রামের প্রায় ২০ হাজার লোক যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হলে নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন।