দেবরের আত্মহত্যার পরদিন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে এলিনা আক্তার (২০) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার উপজেলার মহিষার গ্রামের প্রবাসী ফয়সাল মল্লিকের বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় মিল্টন মল্লিক (২৫) নামের এক যুবক ‘আত্মহত্যা’ করেন। মৃত যুবকের মরদেহ বাড়ি পৌঁছার আগেই আজ বুধবার সকালে এলিনা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। তাঁরা সম্পর্কে চাচাতো দেবর-ভাবি।
এলিনা আক্তার উপজেলার মহিষার গ্রামের মালয়েশিয়াপ্রবাসী ফয়সাল মল্লিকের স্ত্রী। তাঁর এক বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আর মিল্টন একই গ্রামের সায়েদ মল্লিকের ছেলে। তিনি মোহাম্মদপুরে মিষ্টির দোকানে কাজ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, দেবর-ভাবির মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের জেরে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এমন ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই বছর আগে ফয়সাল মল্লিক এলিনা আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের প্রায় এক বছর পর ফয়সাল মালয়েশিয়া চলে যান। তাঁদের এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
অপর দিকে সাত মাস আগে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরে ঢাকায় মিষ্টির দোকানে কাজে যোগ দেন চাচাতো দেবর মিল্টন মল্লিক। তাঁদের মধ্যে গোপনে প্রেমের সম্পর্ক হয়। তিন মাস আগে বিষয়টি জানাজানি হলে ঝামেলার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু বলেন, ‘মিল্টন আমার কাছের বন্ধু ছিল। সাত মাস আগে লিবিয়া থেকে ফিরে এসে ঢাকায় মিষ্টির দোকানে কাজে যোগ দেয়। গতকাল রাতে খবর পাই, সে ইফতার শেষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সকালে শুনতে পাই, ওর চাচাতো ভাবিও আত্মহত্যা করেছে। এলাকাবাসীর অনেকের ধারণা, তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।’
আব্দুল খালেক মাদবর নামের তাঁদের এক আত্মীয় বলেন, ‘দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই ঘটনার সূত্র ধরে তারা আত্মহত্যা করতে পারে। আমরা আগে থেকেই আভাস পেয়েছিলাম দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক আছে।’
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, এলিনা আক্তার নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ‘জানতে পেরেছি, গতকাল ঢাকায় গৃহবধূর চাচাতো দেবর আত্মহত্যা করেছেন। প্রেমঘটিত কারণে তাঁরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন।’