ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ঘোষণা দিয়ে ফুল দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন। তবে থানায় নেওয়ার পর তাঁকে পরে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক।
এর আগে আজ রোববার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা থেকে তাঁকেসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়ার পর অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জিসানুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শিক্ষক জামাল উদ্দিন ৩২ নম্বর আসার পর তাঁকে সংক্ষুব্ধ লোকজন মারধর করে। পরে তাঁকেসহ পাঁচজনকে আমরা হেফাজতে নিই। তাঁকে সেখান থেকে পুলিশ না নিয়ে গেলে আরও বড় কোনো ঘটনা ঘটত। তাই তাঁকে নিরাপদে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকেসহ দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তিনজন নিজেদের নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী পরিচয় দেওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ নিষিদ্ধঘোষিত কাউকে এখানে আসতে দেবে না।’
এর আগে দুপুরে অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন তাঁর ফেসবুকে নিজেকে আওয়ামী লীগের আমলে ‘বঞ্চিত’ উল্লেখ করে লেখেন, ‘ধানমন্ডি ৩২-এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্ন বাসভবনে গমন করে অশ্রুপাত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করবো আজ বিকেল চারটায়। আপনাদের দলে দলে যোগদান করার অনুরোধ করছি।’
তাঁর ঘোষণার পরই ৩২ নম্বর এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ঘোষণা অনুযায়ী তিনি ৩২ নম্বর গেলে সেখানে কয়েকজন তরুণ তাঁকে কিল-ঘুষি দেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাঁকে হেফাজতে নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে ওই এলাকায় শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের হেফাজতে নিয়ে যায়।