স্বামী বন্যপ্রাণী নিধনের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তালাক দিয়েছেন স্ত্রী। গত সোমবার রাতে জবাই করা দুটি হরিণসহ মো. হানিফা (৪৫) গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার তাকে তালাকের নোটিশ পাঠান স্ত্রী শাহীনুর বেগম (৪০)। বরগুনার পাথরঘাটায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি এখন টক অব দ্য টাউন।
হানিফা পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হাঁড়িটানা গ্রামের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সস্ত্রীক বসবাস করে আসছিলেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলার খাল এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায় বন রক্ষীরা। এ সময় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার থেকে জবাই করা দুটি হরিণ ও নয়টি বিশেষ ফাঁদসহ হাতেনাতে আটক করা হয় মো. হানিফাকে। পরে তাকে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মো. পনির শেখ এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাস জেল খাটার আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত হরিণের চামড়া ও শিং সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং মাংস কেরোসিন মিশিয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।
এ দিকে হানিফার এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সামাজিকভাবে চরম অপদস্থ হন তার স্ত্রী শাহীনুর বেগম। তিনি জানান, হানিফা আগে সাগরে মাছ ধরতেন। কিন্তু ইদানীং তিনি অসাধু উপায়ে হরিণ শিকারে জড়িয়ে পড়েন। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি কর্ণপাত করেননি।
শাহীনুর বেগমের ছোট ভাই জহিরুল ইসলাম বন বিভাগের পাথরঘাটা সদর বিট কার্যালয়ে মালির কাজ করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "হানিফার এই অবৈধ কারবারের কারণে বন বিভাগে কাজ করা আমার পক্ষে দুরূহ হয়ে পড়ছিল। বারংবার সতর্ক করার পরও তিনি অন্ধকার পথ ছাড়েননি। তাই পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে আমার বোন এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’