মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের খাগছাড়া গ্রামে গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খাগছাড়া নতুন বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সুচিয়া ভাঙ্গা গ্রামের আলামিন সন্ন্যামত (১৮), জামাল ঢালী (১৮), অলিল ঢালী (১৯), শাহ আলম সন্ন্যামত (১৮) এবং উত্তর খাগছাড়া গ্রামের রেজাউল চৌকিদার (১৭), কাওসার তালুকদার (১৬), কামাল হোসেন (২০), সাব্বির শিকদার (১৮), শুভ কাজী (১৭), রোমান কাজী (১৮) প্রমুখ। আহতদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর খাগছাড়া গ্রামের কাওসার তালুকদারের মেয়ে লামইয়া আক্তারের বিয়ের গায়েহলুদের আয়োজন করা হয় বুধবার (১১ জুন) সন্ধ্যায়। অনুষ্ঠানে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাগর বেপারী ও হাকিম কাজীর লোকজন যোগ দেন। সেখানে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তর খাগছাড়া নতুন বাজারে সালিস ডাকা হয়। সালিস চলাকালে দুই পক্ষ উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হন, বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয় এবং ১০টির মতো দোকান ও বসতঘর ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিয়েবাড়ির এক ব্যক্তি নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে কয়েকটি কিশোর মেয়েদের বিরক্ত করছিল, যার সূত্র ধরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাজ্জাক জানান, সালিস চলাকালে দুই পক্ষ উত্তেজিত হয়ে পড়লে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযুক্ত দুই পক্ষের কেউ এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে বক্তব্য দেননি।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।