রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার একটি বাসা থেকে রাজিয়া সুলতানা মিম (২৮) নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজিয়ার স্বামী রাজীব মিয়া পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, কলহের জেরে তাঁর স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দক্ষিণখানের কসাইবাড়ি এলাকার একটি বাসা থেকে মিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। রাজিয়া সুলতানা উত্তরা হেডকোয়ার্টার এপিবিএনে কর্মরত ছিলেন। আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাজিয়ার মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়।
রাজিয়া বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নয়াবাড়ি গ্রামের মো. নাসির উদ্দিন বাচ্চুর মেয়ে। দক্ষিণখানের বাসায় একমাত্র মেয়েকে নিয়ে থাকতেন।
দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ আহমেদ জানান, রাজিয়া ভাড়া থাকতেন দক্ষিণখান এলাকার একটি বাড়িতে। তাঁর স্বামী রাজীব মিয়াও কনস্টেবল। তাঁর কর্মস্থল ফরিদপুরের ভাঙ্গা হাইওয়েতে। রাজীবের বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায়।
এসআই পলাশ আহমেদ আরও জানান, রাজিয়ার স্বামী রাজীব দাবি করেছেন, গতকাল রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে রাজিয়া তাঁর আইফোন ভেঙে ফেলেন। এর আগের একটি ভিভো ফোন ভেঙে ফেলেছিলেন। এর জের ধরে গতকাল রাত ৯টা ২০ মিনিট থেকে ৯টা ৪০ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দেন রাজিয়া। কিছুক্ষণ পর দেখতে পেয়ে স্বামীই তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানেই মধ্যরাতে চিকিৎসক রাজিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে পুলিশ কনস্টেবল রাজীব মিয়ার বন্ধু শামীম আল মাহীন জানান, পুলিশে চাকরি হওয়ার পর ট্রেনিংয়ে রাজীবের সঙ্গে রাজিয়ার পরিচয়। সেখান থেকে তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক। তাঁরা পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেন। ১৯ মাস বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে তাঁদের। কর্মস্থলের কারণে রাজিয়া ঢাকার দক্ষিণখানে থাকতেন এবং রাজীব থাকেন ফরিদপুরের ভাঙ্গায়। তবে রাজীব প্রতি সপ্তাহে স্ত্রীর কাছে এসে থাকতেন। গতকাল রাতে কোনো কারণে রাজিয়া গলায় ফাঁস দিয়েছে বলে তাঁরা খবর পান। পরবর্তীকালে হাসপাতালে এসে মরদেহ দেখতে পান।