নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সম্পদের পরিমাণ ৭ কোটি ৬২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৪১ টাকা। সাবেক এই উপমন্ত্রীর বার্ষিক আয় ৭০ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮ টাকা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাখিল করা হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
হলফনামায় জানানো হয়, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু পেশায় নাটোর জজকোর্টের আইনজীবী। তবে হলফনামায় প্রদর্শিত আয়ের উৎস ভিন্ন।
২০২৫-২৬ করবর্ষে কৃষি খাত থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় করেছেন তিনি। বাকি ৭০ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮ টাকা আর্থিক পরিসম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয় হিসেবে প্রদর্শিত। এই আয়ের বিপরীতে ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৬ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন দুলু।
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নগদ টাকার পরিমাণ ১ কোটি ৭৪ লাখ ৯৫ হাজার ৮০৪, ব্যাংকে জমা ৪৭ লাখ ৮৯ হাজার ৮৭৬ এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তবে আর্থিক পরিসম্পদে দুলুর বিনিয়োগ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন মেয়াদি আমানতে দুলুর বিনিয়োগ ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এ ছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে দুলু পেয়েছেন ১ কোটি ৮০ লাখ ৬ হাজার ১৬১ টাকা। দুলুর নামে সোনা রয়েছে ২০ ভরি। তাঁর নামে রাজধানী ঢাকার বনানীতে ৫ কাঠার একটি প্লট আছে, যার দাম ৫৫ লাখ টাকা। নাটোরের আলাইপুরে আছে ১৪ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ টাকা দামের তিনতলা একটি বাড়ি। এ ছাড়া কৃষিজমির পরিমাণ ৪০ বিঘা। বর্তমানে দুলুর নামে আয়কর, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন আইনে ৪৪টি মামলা রয়েছে; যার মধ্যে ১৭টি বিচারাধীন এবং অন্যগুলো স্থগিত।
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ১৯৯৬ সালে ফেব্রুয়ারি ও জুনে নাটোর-২ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ভূমি উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। ২০০৬-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে অনুষ্ঠিত চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনোটিতেই অংশ নিতে পারেননি দুলু। এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন তিনি।