পবিত্র মাহে রমজান ঘিরে কুমিল্লা নগরীর ইফতার সামগ্রীর বাজারে নেমেছে উৎসবের আমেজ। গতকাল বৃহস্পতিবার রোজার প্রথম দিন বিকেল গড়াতেই ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত হোটেল-রেস্তোরাঁ—নগরীর সবখানেই দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। ইফতারের প্রায় এক ঘণ্টা আগেই অনেক দোকানে শেষ হয়ে যায় জনপ্রিয় আইটেমগুলো।
এ দিন দুপুরের পর থেকেই নগরীর কান্দিরপাড়, নিউমার্কেট, রাজগঞ্জ, রানীরবাজার, চকবাজার, মোগলটুলি, রামঘাট, টমছমব্রীজ, পদুয়ারবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রেতারা সাজিয়ে বসেন নানা পদের ইফতারসামগ্রী। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বেলা ৩টার পর থেকেই ক্রেতারা ভিড় করতে শুরু করেন। আসরের নামাজের পর ভিড় আরও বেড়ে যায়, আর ইফতারের আধা ঘণ্টা আগে থাকে সবচেয়ে বেশি চাপ।
সার্বিকভাবে রমজানের প্রথম দিনেই কুমিল্লার ইফতারির বাজারে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। অলিগলির ভাসমান দোকান থেকে শুরু করে বড় রেস্তোরাঁ—সবখানেই জমেছে বেচাকেনা। বিক্রেতাদের প্রত্যাশা, রমজানজুড়ে প্রতিদিনই দুপুর থেকে মাগরিব পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়বে এবং এই প্রাণচাঞ্চল্য বজায় থাকবে মাসজুড়ে।
ইফতারির বাজারে এবার সবচেয়ে বেশি চাহিদা লক্ষ করা গেছে হালিম, মাষকলাই (ডালভিত্তিক আইটেম) ও শাহি জিলাপিতে। পাশাপাশি পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, ছোলা, মুড়ি, জালি কাবাব, শামি কাবাব, শিক কাবাব, চিকেন ফ্রাই, বোরহানি, ফিরনি, শাহি জর্দা, তেহারি, কাচ্চি বিরিয়ানি, কালাভুনা, মোরগ ও খাসির রানও রয়েছে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায়।
নগরীর কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ এলাকার একাধিক রেস্তোরাঁ ও ফুটপাতের দোকানে দেখা যায়, বিশাল হাঁড়িতে ধোঁয়া উঠছে হালিমের। ক্রেতারা দাঁড়িয়ে কিনছেন গরম গরম হালিম। অনেকেই বলছেন, রমজানে হালিম ছাড়া ইফতার যেন অপূর্ণ থেকে যায়।
নগরীর সুজানগর এলাকার বাসিন্দা মো. রাসেল হাসান বলেন, ‘প্রতিবছরই কান্দিরপাড় থেকে ইফতারি কিনতে আসি। বিশেষ করে বিফ, চিকেন ও মাটনের আলাদা হালিম পাওয়া যায়। পরিবারে সবাই হালিম পছন্দ করে, তাই প্রথম রোজায় হালিম না কিনলে চলে না।’
চকবাজারে ইফতারি কিনতে আসা মোবারক হোসেন বলেন, এখানে ইফতারি কেনার আলাদা আনন্দ আছে।
চকবাজারের বিক্রেতা মো. বিপুল বলেন, মানুষ আসরের নামাজের পর থেকেই আসতে শুরু করেন। ইফতারের এক ঘণ্টা আগে ভিড় বেড়ে যায়।
নগরীর কান্দিরপাড় প্ল্যানেট এসআরে অবস্থিত চায়না গার্ডেন রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক মো. সেলিম মুন্সী জানান, রমজান উপলক্ষে তাঁরা প্রতিদিন প্রায় ১০০ আইটেম প্রস্তুত করছেন। বিফ, চিকেন ও মাটন—তিন ধরনের হালিমই বিক্রি হচ্ছে সমান দামে। ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় মান বজায় রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।