ভারতের জৈনপুরী পীরের নসিহতে ১৯৬৯ সাল থেকে নির্বাচনবিমুখ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা ইউনিয়নের নারীরা। তবে জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যাশা, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর নারী ভোটারের সংখ্যা বাড়বে।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ৬৯৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১০ হাজার ৫৯৯ এবং পুরুষ ১১ হাজার ৩৯৬ জন। ইউনিয়নের প্রধান কেন্দ্র গৃদকালিন্দিয়া বাজার, কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসাগুলো ঘুরে দেখা গেছে নারীদের বিচরণ। তবে সবাই পর্দায় থেকে তাঁদের প্রয়োজনীয় কাজ সারেন।
ইউনিয়নের চর মান্দারি গ্রামের জমাদারবাড়ির ৮০ বছরের বৃদ্ধ শফিউল্যাহ বলেন, ‘১৯৬৯ সালে এই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কলেরা মহামারি দেখা দেয়। তৎকালীন ভারতের ঐতিহাসিক জৈনপুরী দরবারের পীর এই এলাকা সফরে ছিলেন। তখন লোকজন তাঁর কাছে গেলে নারীদের পর্দায় থাকার নসিহত করেন তিনি। তখন থেকেই নারীরা পর্দার খেলাপ হওয়ার ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যান না।’
ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে যাওয়া বেশ কয়েকজন প্রবীণ নারী জানান, তাঁদের ইউনিয়নে মহিলাদের ভোট দেওয়ার বিষয়ে হুজুর নিষেধ করছেন। এই জন্য তাঁর নির্দেশনা মেনে চলছেন।
চর মান্দারি গ্রামের সুলতান খান (ক্বারী) বাড়ির সুফিয়া বেগম বলেন, ‘গত প্রায় ৪০ বছর আগে কয়েক গ্রামের কিছু নারী ভোট দেয়। কিন্তু তারা পীরের নির্দেশনা অমান্য করায় তাদের কয়েকজনের নানা রোগ ও অঙ্গহানির মতো অসুস্থতা দেখা দেয়। ভয়ে এর পর থেকে আর কেউ ভোট দেয়নি।’
একই বাড়ির অপর দুই প্রবীণ নারী জানান, পীরের নসিহতে তাঁরা ভোট দেন না। তাঁদের ভোট দেওয়ার কথা এসে বলেনও না। এবার অন্য নারীরা ভোট না দিলেও তাঁরা দেবেন।
ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য সাজেদা আক্তার বলেন, গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে কোনো এক নির্বাচনে ভোট দিতে কেন্দ্রে গেলে হুজুরের নির্দেশনা মনে পড়ে। তাৎক্ষণিক তিনি নিজে ভোট না দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পছন্দের প্রতীক বলে ভোট সম্পন্ন করান। এর পর থেকে তিনি নিজেই ভোট দিচ্ছেন।
সাজেদা আক্তার আরও বলেন, ‘আমি নারীদের বলেছি, ভোট আপনার অধিকার। পর্দা পালন করেই ভোট দিতে পারবেন। ওই ধরনের ব্যবস্থা আছে।’
ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘জৈনপুরী হুজুর পর্দায় থাকার জন্য বলেছেন। ভোট দেওয়া কিংবা না দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো নির্দেশনা দেননি। এ বছর আমরা চেষ্টা করছি, নারীদের ভোটমুখী করার জন্য।’
একই ইউনিয়নের বাসিন্দা ও চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ বলেন, ‘এখানে নামমাত্র কিছু নারী ভোট দেন। এই সংখ্যা যেন আরও বাড়ে, সে বিষয়ে আমাদের চেষ্টা চলছে।’