ফরিদপুরে রাজু হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্যসহ রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশের দাবি, কিলিং মিশনে ছোট ভাই ইব্রাহীম শেখ (২৬) মুখোশ পরে অবস্থান করেন এবং তাঁরই পরিকল্পনায় অংশ নেয় স্থানীয় মাদক কারবারিরা। এ হত্যাকাণ্ডের পর তিনি দিব্যি ঘুরে বেড়ালেও পুলিশের তদন্তে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।
আজ সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয় চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে রহস্য তুলে ধরে এসব দাবি করেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে মনোমালিন্য ও স্থানীয় মাদক কারবারিদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে পুলিশ সুপার জানান।
এ ঘটনায় ১০ আসামির মধ্যে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছোট ভাই ইব্রাহীম শেখকে গতকাল রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে শহরের গুহলক্ষ্মীপুর এলাকার রেলস্টেশন এলাকার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। পরে তাঁর মা ছবি খাতুনের করা হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই দিন সকালে পলাতক অবস্থায় অন্যতম আসামি হৃদয় (২২) ও মারুফকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছে থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চারটি ধারালো অস্ত্র-চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া আগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন গুহলক্ষ্মীপুরের রেলবস্তির বাসিন্দা অমিত রায় (২২), নূর ইসলাম (৫৪), মেহেরুন নেছা (২৮), নিশান শেখ ও হাবেলীগোপালপুর এলাকার শাহেদ আরমান (২৭)।
পুলিশ সুপার জানান, মাদক-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ২ মার্চ শহরের গুহলক্ষ্মীপুর রেলবস্তি এলাকায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজু শেখকে (৩৬) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি ওই এলাকার বাবলু শেখের ছেলে। ঘটনার পর তাঁর মা ছবি খাতুন কোতোয়ালি থানায় ১০ জনকে আসামি হত্যা মামলা করেন। তবে ওই মামলায় ইব্রাহীম শেখকে আসামি করা হয়নি। পরে পুলিশের তদন্তে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা বেগম, শামছুল আজম (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), আজমীর হোসেন (সদর সার্কেল) ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।