বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সারওয়ারের ওপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে হামলায় থানায় মামলার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার বরিশাল মহানগর মুখ্য আদালতের বিচারক জহির উদ্দিন কোতোয়ালি থানার ওসিকে এজাহার নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার আগের অভিযোগটিই থানায় এজাহারভুক্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীর আইনজীবী হাফিজ আহমেদ বাবলু জানান, ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর আদালতে মামলাটি করা হয়। তখন আদালত বন্দর থানার ওসিকে মামলা এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দেন। পরে মামলার তদন্তে দেখা যায়, ঘটনাস্থল বিশ্বাসের হাট কোতোয়ালি থানার মধ্যে পড়েছে। তাই আজ বিচারক কোতোয়ালি থানায় এজাহারভুক্ত করার জন্য নতুন আদেশ দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর ওই বছরের ১০ নভেম্বর বন্দর থানায় এ ঘটনায় মামলা করেন জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মশিউল আলম পলাশ। তবে হামলার ঘটনাস্থল ছিল কোতোয়ালি থানা এলাকায়।
মামলার আসামিরা হলেন সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের তৎকালীন কমিশনার রূহুল আমিন ও অতিরিক্ত কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া, তৎকালীন জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান, বন্দর থানার ওসি মো. মোস্তফা কামাল হায়দার, পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ মো. ফয়সাল হোসেনসহ তখনকার সময়ে বন্দর থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক, সহকারী উপপরিদর্শক ও কনস্টেবল পদধারী আটজন।
আসামিদের মধ্যে জাহিদ ফারুক শামীম গত ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে গ্রেপ্তার হয়ে বরিশাল কারাগারে রয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সারওয়ার প্রচার চালাতে সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে যান। প্রচার শেষে স্পিডবোটে নগরীতে ফিরছিলেন। বেলা আড়াইটার দিকে সাহেবেরহাট চ্যানেল অতিক্রম করার সময়ে বিশ্বাসের হাট পৌঁছালে পুলিশের দুটি স্পিডবোট সারওয়ারকে বহনকারী স্পিডবোট ঘিরে ফেলে।
নির্বাচনী প্রচার থেকে বিরত থাকতে সারওয়ারকে পুলিশ হুমকি দেয়। এ সময় সারওয়ারের সঙ্গী বাদী (পলাশ) বাধা দিলে তাঁকে মারধর করে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে স্পিডবোটে পুলিশের হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এদিকে মামলার দ্বিতীয় আসামি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার রূহুল আমিন হামলার আট মাস (৩০ এপ্রিল) আগে বরিশাল থেকে ঢাকায় বদলি হন। সারওয়ারের ওপর হামলা হয় ২৬ ডিসেম্বর। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তিনি ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক থাকাবস্থায় অবসরে যান।
তবে আজ আদালতের দেওয়া নতুন আদেশে রূহুল আমিনের নাম বহাল থাকা প্রসঙ্গে বাদীপক্ষের আইনজীবী বাবলু বলেন, ঘটনার সময়ে যিনি পুলিশ কমিশনার ছিলেন, তিনিই আসামি হবেন। নামের ভুল হয়ে থাকলে সংশোধন করে নেওয়া হবে।