রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আর্জেন্টিনার তরুণ সাহিত্যিক ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর ঐতিহাসিক সাক্ষাতের শতবর্ষ স্মরণে ব্যতিক্রমী প্রযোজনা মঞ্চে এনেছিল ম্যাড থিয়েটার। ‘রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বিজয়া’ নামের এ নাটক তাদের দ্বিতীয় প্রযোজনা। আগামী শনিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে একাদশবারের মতো মঞ্চস্থ হচ্ছে নাটকটি।
১৯২৪ সালে দক্ষিণ আমেরিকা সফর করেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ। নভেম্বরে তিনি আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে পৌঁছান। সে মাসেই পরে পেরু যাওয়ার আগে আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৬৩ বছর বয়সী রবীন্দ্রনাথ। খবর পেয়ে ছুটে আসেন তাঁর ভক্ত-পাঠক ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো। কবিকে সান ইসিদ্রোর মিরালরিও ভিলা নামের এক বাগানবাড়িতে নিয়ে সেবা করে সারিয়ে তোলেন ওকাম্পো।
এর বছর দশেক আগে গীতাঞ্জলি কাব্যের অনুবাদ পড়ে রবীন্দ্রনাথের প্রতি আকৃষ্ট হন আর্জেন্টাইন এক ধনাঢ্য পরিবারের এই মেয়ে। তখন ৩৪ বছর বয়সী বিদেশিনী ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সহমর্মিতায় ভরা সান্নিধ্য বাঙালি কবির জীবনে এক বিশেষ অধ্যায়ের জন্ম দেয়।
‘রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বিজয়া’ নাটকটি গড়ে উঠেছে তাঁদের কাছাকাছি কাটানো সেই ক্ষণগুলোকে আশ্রয় করেই। রচনা, পরিকল্পনা ও নির্দেশনা ম্যাড থিয়েটারের প্রধান পরিচালক আসাদুল ইসলাম।
ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর আতিথ্যে প্রায় দুমাস কাটিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর সেই সময়ে লেখা কবিতাগুলো নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘পূরবী’ কাব্যগ্রন্থ, যা উৎসর্গ করা হয়েছিল ওকাম্পোকেই। রবীন্দ্রনাথ তাঁর একটি বাঙালি নামও দিয়েছিলেন, ‘ভিক্টোরিয়া’র অনুসরণে—বিজয়া। ১৯৪১ সালে কবির মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দুজনের মধ্যে বেশ কয়েকটি গভীর আবেগময় ও বুদ্ধিবৃত্তিক চিঠি বিনিময় হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে পরিচয়ের সুবাদে ইউরোপ-আমেরিকায় দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছিলেন ওকাম্পো।
রবীন্দ্রনাথের সেই আর্জেন্টিনা অধ্যায়, তাঁর অসুস্থতার সময় ওকাম্পোর সেবাযত্ন এবং দুই মহাদেশের দুজন সৃষ্টিশীল মানুষের গভীর মানবিক সম্পর্ককে নাট্যভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে ‘রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বিজয়া’য়। নাটকটিতে মাত্র দুটি চরিত্র রয়েছে। রবীন্দ্রনাথের ভূমিকায় অভিনয় করছেন আসাদুল ইসলাম এবং ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর চরিত্রে সোনিয়া হাসান। আলোক প্রক্ষেপণে রয়েছেন আশরাফুল ইসলাম সায়ান এবং আবহসংগীত পরিচালনায় পৃথুলা।
ম্যাড থিয়েটারের দাবি, রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সাক্ষাতের শতবর্ষকে নাট্যপ্রযোজনার মাধ্যমে স্মরণ করার উদ্যোগ দেশের নাট্যাঙ্গনে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা। নাট্যদলটি মনে করে, বিভেদ ও সংঘাতের এই সময়ে মানবিক সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং শিল্পের শক্তিকে নতুনভাবে অনুধাবনে উৎসাহ দেবে তাদের এই প্রযোজনা।