বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে নানা আয়োজন থাকছে নড়াইলে এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালায়। শিশুরা বসবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায়। চিত্রশিল্পীদের নিয়ে থাকছে আর্টক্যাম্প। থাকছে আলোচনা অনুষ্ঠান ও সম্মাননা পদক প্রদান। এবারের আয়োজন থেকে সুলতান সম্মাননা পদক তুলে দেওয়া হবে চিত্রশিল্পী ড. মো. আব্দুস সাত্তারের হাতে।
এবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় এবং শিল্পী এস এম সুলতান সংগ্রহশালা, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, নড়াইল জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এস এম সুলতানের জন্মদিন উদ্যাপন করা হবে। এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জন্মদিন উপলক্ষে স্মৃতি সংগ্রহশালায় সকাল ৬টায় কোরআন খতম, সকাল ৯টায় শিল্পীর কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও দোয়া মাহফিল, সকাল সাড়ে ৯টায় শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী উদ্বোধন, সকাল ১০টায় আর্টক্যাম্প উদ্বোধন করা হবে। এ ছাড়া থাকছে আলোচনা অনুষ্ঠান ও সম্মাননা পদক প্রদান। পরে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। জেলা প্রশাসক আবদুল ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, আতাউর রহমান বাচ্চু, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। উপস্থিত থাকবেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন।
‘এস এম সুলতান: জীবনঘনিষ্ঠ ও সমাজ বাস্তবতার শিল্পী’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার অধ্যাপক রেজা আসাদ আল হুদা অনুপম। এস এম সুলতান সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি জানান, চিত্রশিল্পী সুলতানের স্মৃতি ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গুণী শিল্পীদের প্রতিবছর ‘সুলতান সম্মাননা পদক’ দেওয়া হয়। এবার এই পদক পাচ্ছেন চিত্রশিল্পী ড. আব্দুস সাত্তার।
১৯২৪ সালের এই দিনে নড়াইলের মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এস এম সুলতান। বাবা-মা আদর করে তাঁর নাম রেখেছিলেন লাল মিয়া। এই শিল্পী ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্স আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক পান।
বরেণ্য এই চিত্রশিল্পী মাছিমদিয়া এলাকায় চিত্রা নদীর পাড়ে নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছিলেন শিশুস্বর্গ। তাঁর নিজ বাড়িতে নির্মিত হয়েছে এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর চিরকুমার, অসাম্প্রদায়িক এই শিল্পী মারা যান। নড়াইলের নিজ বাড়ির আঙিনায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।
জানা যায়, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের অঙ্কিত ছবি তাঁর সমকালীন বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো, সালভাদর দালিসহ বরেণ্য চিত্রশিল্পীদের ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়। সুলতানই একমাত্র এশিয়ান শিল্পী, যাঁর ছবি এসব শিল্পীর ছবির সঙ্গে একত্রে প্রদর্শিত হয়েছে। ১৯৭৬ সালে ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমিতে তাঁর একক চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।